নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আবারও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়িরটেক এলাকা থেকে পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করার ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৫ মার্চ) ভোরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় মণ গাঁজা ও সাড়ে চার শতাধিক ফেন্সিডিলের বোতল উদ্ধার করে।
অভিযানের পর মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহসানউল্লাহ এবং নাদিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন।
এদিকে এর কয়েকদিন আগেই, গত ১১ মার্চ রাতে একই এলাকার ঠাকুরবাড়িরটেক এলাকায় আরেকটি অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর নির্দেশে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০ কেজি গাঁজা এবং ৪৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন।
অভিযানকালে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আবু হানিফ ও ইউসুফ মোল্লা নামে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়। আটক দুই ব্যক্তির বাড়ি রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া গ্রামে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠায় সংশ্লিষ্ট তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে রূপগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বড় পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে ওই অঞ্চলটি মাদক পাচার ও মজুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা বিষয়টিও মাদকবিরোধী অভিযানের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই প্রমাণ করে যে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








Discussion about this post