নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে ইউনিফর্ম পরা রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে মারধরের ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়—এটি সমাজে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক আচরণের একটি উদ্বেগজনক প্রতিচ্ছবি।
আজ রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পাশে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মারধরের শিকার হন রেলওয়ে পুলিশের এসআই মো. মিজান ও তার সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবল। পরে আহত অবস্থায় তাদের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এসআই ও তার সঙ্গে থাকা কনস্টেবলকে কয়েকজন যুবক ঘিরে ধরে মারধর করছে।
ভিডিওতে রমজান নামে এক যুবক দাবি করেন, তাকে ও তার এক পরিচিতকে মাদক সংশ্লিষ্টতার ‘মিথ্যা অভিযোগে’ গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেছিলেন ওই পুলিশ সদস্যরা।
তবে পুলিশের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, রেললাইনে নিয়মিত টহলের সময় গাঁজাসহ দু’জনকে আটক করা হলে তাদের সহযোগীরাই পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার প্রকৃত সত্য যাই হোক না কেন, একটি বিষয় স্পষ্ট—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে তার সমাধান আইনের মাধ্যমে হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই বিচার বা অভিযোগের পথ না বেছে সরাসরি হামলা, গণধোলাই কিংবা প্রতিশোধমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ছে।
এ ধরনের ঘটনা শুধু পুলিশের মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দেয়। কারণ একজন ইউনিফর্মধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হন এবং কেউ তা ঠেকাতে এগিয়ে না আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে।
অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে যদি সত্যিই হয়রানি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকে, সেটিও সমানভাবে তদন্ত ও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি দায়িত্বের অপব্যবহার করেন, তবে তারও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারা হামলা করেছে, কেন করেছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কিনা—সবকিছুই স্পষ্টভাবে তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।
নারায়ণগঞ্জের মতো ব্যস্ত শিল্পনগরীতে এমন ঘটনা কেবল একটি মারামারি নয়; এটি আইনের শাসনের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
যদি দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।








Discussion about this post