নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন-কে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা বা জিডি না হওয়ায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম-কে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ ওঠে, হাতেমের অনুসারীরা এমপি আল আমিনকে একটি পোশাক কারখানার ভেতরে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরে পুলিশ গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিসিক শিল্পনগরীর এক নম্বর গেট সংলগ্ন একটি পোশাক কারখানার ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান।
তবে ঘটনার পর দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি না হওয়ায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ফতুল্লাবাসীর অনেকেই বলছেন, “যেখানে একজন সংসদ সদস্যই সন্ত্রাসীদের হাতে অবরুদ্ধ হন, অথচ এরপরও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না—সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্য এমন ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে এই সমালোচনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এমপি আল আমিনের একটি উদ্যোগ। সরকারি সেবা পেতে গিয়ে কেউ ঘুষ বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি তাকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার সামনে একটি সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন তিনি।
রোববার রাতে স্থাপন করা ওই বিলবোর্ডে নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি মোবাইল নম্বর (০১৮৯৮-৮৬৮৫৬৮) দেওয়া হয়েছে। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজের মাধ্যমে ঘুষ, হয়রানি বা দালালচক্রের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।
এমপি আল আমিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারি সেবাকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে ফতুল্লায় অনেকেই বিষয়টিকে কটাক্ষ করে দেখছেন। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, “যিনি নিজেই সন্ত্রাসীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং সেই ঘটনায় দুই সপ্তাহেও কোনো মামলা হয় না, তিনি আবার বিলবোর্ড দিয়ে ঘুষবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন—এটা অনেকের কাছেই হাস্যকর মনে হচ্ছে।”
অনেকে আবার সরাসরি হাতেম অনুসারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে বলছেন, একটি ইফতার মাহফিলের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন অশোভন আচরণ প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু গোষ্ঠী এলাকায় নিজেদের শক্তির মহড়া দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; বরং এতে স্থানীয় রাজনীতি, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং প্রশাসনিক নীরবতার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আইনের শাসন কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে, নাকি প্রভাবশালীদের কাছে তা ভিন্ন রূপ নিচ্ছে ?








Discussion about this post