নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এখন যেন এক অঘোষিত মাদক নগরীতে পরিণত হয়েছে।
আর এই পুরো অবৈধ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জামান মল্লিক নামে এক ব্যক্তি, যার দাপটে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যেই চলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার বাণিজ্য, অথচ দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
খোলামেলা মাদক বেচাকেনা, ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জামান মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব গোপালনগর ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে মাদকের কেনাবেচা।
শুধু নিজে নয়, সে গড়ে তুলেছে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক—যেখানে একাধিক ‘সেলসম্যান’ বা প্রতিনিধি সরাসরি গ্রাহকের কাছে মাদক পৌঁছে দেয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে সহজেই বিস্তার লাভ করছে এই ভয়ংকর কারবার।
প্রতিরোধে নামলেই নির্যাতন: আতঙ্কে এলাকাবাসী
এই মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই নেমে আসে নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মুরুব্বি ও সচেতন ব্যক্তিরা বাধা দিতে গেলে জামান মল্লিকের ক্যাডার বাহিনী তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এমনকি এলাকায় ভূমিদস্যুতা, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও জড়িত এই চক্র। ফলে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: পুরনো অপরাধ, নতুন দৌরাত্ম্য
জানা গেছে, জামান মল্লিক নতুন কোনো নাম নয়—আগেও একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল সে। বিশেষ করে ২০১৬ সালে বড় চালানসহ ধরা পড়ে জেলও খেটেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—কার আশ্রয়ে জেল থেকে বেরিয়েই আবারও আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠলো এই মাদক ব্যবসায়ী ?
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়ায় সে এখন আরও বেপরোয়া।
যুবসমাজ ধ্বংসের পথে, নীরব দর্শক প্রশাসন
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার তরুণ সমাজ দ্রুত ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও সহজলভ্য মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
স্থানীয়দের সরাসরি অভিযোগ—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ ছাড়া এত বড় মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ফলে প্রশাসনের নিরবতা এখন জনমনে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর শেষ আহ্বান
পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাকাবাসী সরাসরি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের একটাই দাবি—জামান মল্লিক ও তার পুরো চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
নচেৎ, পূর্ব গোপালনগর অচিরেই মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে—এমন আশঙ্কা এখন সর্বত্র।









Discussion about this post