স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার কথা মনে করে সারাদেশের মানুষের এখনো আঁতকে উঠে। সাত খুনের মূল হোতা সামান্য একজন কাউন্সিলর হয়ে কয়েকটি অস্ত্র সাথে পুলিশের বেতারযন্ত্র নিয়ে মন্ত্রীর মতো সার্বক্ষনিক চলাফেরা করতো। একজন পুলিশও থাকতো নূর হোসেনের সাথে নিরাপত্তায়। পুলিশের আইন ও বেতারযন্ত্রের বিধিমালা না মেনে খুনী নূর হোসেন পুলিশের সকল তথ্যই জেনে যেতো মূহুর্তের মধ্যে। আর সেই তথ্যকে কাজে পুঁজি করে এমন কোন অপকর্ম নাই যা নূর হোসেন দ্বারা সংগঠিত হয় নাই।
আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের বেতার যন্ত্র ব্যবহার করে বিধিমালা ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে জোড়ালোভাবে। নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রার্থী এমন অভিযোগ তুলে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৩৬ জন প্রার্থী বিভিন্ন রাজনেতিক দলের থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে নির্বাচনে লড়াই করছেন।
কয় জন প্রার্থীর সাথে
পুলিশ সার্বক্ষনিক বেতারযন্ত্র দিয়ে রেখেছেন ? তাহলে কিসের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ? পুলিশের বেতার যন্ত্রের অপব্যবহার হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।
গত কয়েকদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র এমন অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার পর জেলা পুলিশের অনেকের সাথে যোগাযোগ করলে কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ পুলিশী নিরাপত্তার পাশাপাশি পুলিশের বেতার যন্ত্র ব্যবহার করেছেন। এখনো পুলিশের এই বেতার যন্ত্র কেউ ব্যবহার করছে কি না পুলিশের অপারেটরদের কয়েকজন এ বিষয়ে কথা বলতে অনিহা প্রকাশও করেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা ও প্রার্থীদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে আরো বলেন, পুলিশের বেতার যন্ত্র শুধুমাত্র পুলিশী কার্য্যক্রমের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু একজন প্রার্থীর কাছে বডিগার্ড ও বেতারযন্ত্র থাকে কি করে ? পুলিশের বেতার যন্ত্র ব্যবহারের বিধিমালা কি মানছেন কেউ ? তাহলে তো সকল প্রার্থীকে একই সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশের সকল কার্যক্রমের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে ।
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এই বেতারযন্ত্র অপব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের জোড়ালো হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন অনেকেই।
পুলিশের বেতারযন্ত্রের অপব্যবহার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই ।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং করণীয় বিষয়ে জেলা পুলিশের ডিআইও-২ (মিডিয়া বিষয়ক ইন্সপেক্টর) সাজ্জাদ রুমনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, আসলে পুলিশের বেতারযন্ত্র কোন প্রার্থী ব্যবহার করেন তা ঠিক এই মূহুর্তে বলতে পারছি না। তবে এ বিষয়টি খোজ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবো।









Discussion about this post