স্টাফ রিপোর্টার :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবারই প্রথম আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে মন্ত্রী পরিষদে নারায়ণগঞ্জের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) ঠাঁই করে নিয়েছেন । এর আগে চার দফা আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলেও নারায়ণগঞ্জে কোন নেতা মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই করে নিতে পারেন নাই । গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) কে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় দায়িত্বে দিয়ে শপথ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে বইছে আনন্দের বন্যা।
আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের ভুমিকা অপরিসীম থাকার পরও নানা কারণে বিগত কয়েক দফা সরকার গঠন করলেও নারায়ণগঞ্জের কোন আওয়ামীলগে নেতা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পান নাই । ফলে নারায়ণগঞ্জের অনেকের দাবী ছিলো এবার অন্তত: নারায়ণগঞ্জের যে কাউকে মন্ত্রী দিয়ে জেলার সম্মান রক্ষা কিরবে আওয়ামলীগ ।
স্বাধীনাতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র কয়েক বছর রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের প্রতি জাতির জনকের ছিলো আলাদা দৃস্টিভঙ্গি । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর সামরিক শাসনের এক পর্যায়ে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রথম নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদ্য এম এ সাত্তারকে পাটমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয় । পরে খালেদা জিয়া আবদুল মতিন চৌধুরীকে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী/বস্ত্রমন্ত্রী এবং অধ্যাপক (!) রেজাউল করিমকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয় ।
২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রী
আগামীকাল সোমবার (৭ জানুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন। শপথ নেওয়া জন্য ইতোমধ্যে তারা টেলিফোনে ডাক পেয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রবিবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী পরিষদের এ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। নিম্নে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও তাদের দফতরের তালিকা তুলে ধরা হলো:
২৪ জন মন্ত্রী
আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, মো. আব্দুর রাজ্জাক কৃষি মন্ত্রণালয়, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মো. হাছান মাহমুদ তথ্য মন্ত্রণালয়, আনিসুল হক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থ মন্ত্রণালয়, তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, ডা. দীপু মনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এম এ মান্নান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন শিল্প মন্ত্রণালয়, গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সাধন চন্দ্র মজুমদার খাদ্য মন্ত্রণালয়, টিপু মুনশী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নুরুজ্জামান আহমেদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ ম রেজাউল করিম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মো. শাহাবুদ্দিন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বীর বাহাদুর উ শে শিং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয়, মো. নুরুল ইসলাম সুজন রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্থাপতি ইয়াফেস ওসমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মোস্তাফা জব্বার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
১৯ জন প্রতিমন্ত্রী
কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প মন্ত্রণালয়। ইমরান আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। আশরাফ আলী খান খসরু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মুন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জাকির হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।স্বপন ভট্টাচার্য্য, স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। জাহিদ ফারুক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। শরীফ আহমেদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কে এম খালিদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ডা. মো. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তিন জন উপমন্ত্রী
বেগম হাবিবুন নাহার, পরিবশে ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। একে এম এনামুল হক শামীম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।









Discussion about this post