এনএনইউ রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিন যাবৎ ই চলছে ভেজালের রমরমা কারবার । খাদ্য সামগ্রী কিংবা প্রসাধন সামগ্রী কোথায় নেই ভেজাল ? হাত বাড়ালেই ভেজাল কারবারীরা ধরা পরছে ভ্রাম্যমান আদালতের হাতে । আবার অনেক রাঘব বোয়ালদের ধরা ছোয়ার বিষয়ে রয়েছে নানা তদ্বির । এমন তদ্বিরের কারণে নারায়ণগঞ্জ শহর কিংবা উপজেলা পর্যায়ের অসাধু ব্যসায়ীরা দলবেধে চালিয়ে যাচ্ছে ভেজালের রমরমা কারবার । প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তা সাধারণ প্রতি মূহুর্তে।
জেলা প্রশাসনের অনেক অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত সুসম্পর্ক রাখার কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরের সর্বত্র ভেজাল কারবারীরা এমন নগ্নতা চালিয়ে যাচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে। ভ্রাম্যমান আদালত কোথাও অভিযান পরিচালনা করার আগেই নানা কৌশলে এবং মুঠোফোনে পৌছে যাচ্ছে ভেজাল কারবারীদের কাছে তথ্য।
আর শহরের খাবারের দোকানগুলো থেকে ব্যবাসয়ীরা একজোট হয়ে নিয়মিত কোন কোন কর্মকর্তাদের মোটা অংকের মাসোয়ারা আগাম দিয়ে আসার কারণে হোটেল রেস্তোরায় যতই পঁচা, বাসী ও অপরিচ্ছন্ন খাবার বিক্রি করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করুক না কেন তাদের কিছুই হবে না বলে জোড় দাবী করে আসছে অসাধু কারবারী নিজেরাই ।
নারায়ণগঞ্জ শহরের সিরাজউদ্দৌলা রোডে (ফলপট্টি) জাহান মার্কেটে ৪টি প্রসাধনী বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসনে আরা পপি । অপরদিকে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া তাবাসুম আদি মিস্টান্ন ভান্ডার ও অমূল্য জাতীয় মিস্টান্ন ভান্ডারে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ।
বুধবার ৯ জানুয়ারি সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত তাদের কাজ শুরু করার আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের অনেক হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছে খবর আসে মোবাইল কোর্ট বের হাচ্ছে । সাবধান থাকেন । আবার কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন আসে দোকান আপাতত: আজকের জন্য বন্ধ রাখেন।
এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী ফোন পেয়ে ব্যবসা নিজ প্রতিষ্টান বন্ধ করে দূরে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে, তিনি তার নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, ”মোবাইল কোর্ট নাকি ডিসি অফিস থেইক্কা রেব হচ্ছে, ফোন কইরা কইলো তাই দোকান বন্ধ কইরা ফেলছি ।” এরপর এই ব্যবসায়ী বললেন প্রশাসনের নানা যন্ত্রণার বিস্তর ফিরিস্তি । কোথায় কোথায় নিয়মিত টাকা দিতে হয় ! কে কে টাকা নিয়ে যায় । কোন কোন কারণ দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে প্রশাসনের অসাধুরা । তারও একটি তথ্য প্রকাশ করলো এই ব্যবসায়ী।
বুধবার শহরের নিতাইগঞ্জ ও সিরাজউদ্দৌলা রোডে (ফলপট্টি) ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত ভ্যাট ট্যাক্স না দেয়া ও আমদানিকারকের কোনো সিল না থাকায় চার প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ পন্য বিক্রি করার দায়ে সিআরপি এ্যাক্ট ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় চেীধুরী ট্রের্ডাস ১০ হাজার টাকা, সেলিম ব্রাদাস ১০ হাজার টাকা, সাইফুল্লাহ এন্ড সন্স ৮ হাজার টাকা, হাজী আলতাফ স্টোর ৮ হাজার টাকা এবং অমূল্য মিস্টান্ন ভান্ডারকে ১০ হাজার টাকা, আদি জাতীয় মিস্টান্ন ভান্ডারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় ভোত্তা অধিকার সংরক্ষণের কর্মকর্তাগণ, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর শাহজাহান হালদার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পচিালনার আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহেরের অধিকাংশ অসাধু ব্যবসায়ীদের দোকন/প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে ব্যবসায়ীরা সটকে পরতেও দেখা গেছে।









Discussion about this post