এনএনইউ রিপোর্ট :
বন্দরে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে আশিকুর রহমান নামে এক পথচারী গার্মেন্ট কর্মী নিহত ও বাবুল নামে অপর এক যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তদস্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। একই সাথে বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) আজহারুল ইসলাম কে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকেএক ই মেইল বার্তায় এবং পরে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বন্দর থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার মদনপুরের চাঁনপুর এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামী স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান সমর্থক দিপু ও সুজনকে গ্রেফতার করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই সময় দিপু ও সুজনের সহযোগীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ ও প্রতিরোধ করে।
এতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ঘ হয়। এক পর্যায়ে তারা গ্রেফতারকৃত আসামীদের ছিনিয়ে নেয় ও পুলিশের দুইটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। তখন পুরো এলাকায় রুক্ষেত্রে পরিনত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় আধ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায় এবং রিফাত ও নুরনবী নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের দাবী করেন জানায়, মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার করার পর আসামীপক্ষের লোকজন তাদেরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
রোববার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বিষয়টি গোপন রাখলেও দুপুরে আশিকুর রহমানের লাশ উদ্ধার দেখিয়ে করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মদনপুর পরিবহন স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করে গত ১৮ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান ও আমির হোসেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা হয়।
ওই মামলার বিষয়ে পুলিশ একটি পক্ষের হয়ে এবং তাদের লোকজনকে সাথে নিয়ে আসামী গ্রেফতার করতে গেলে অপরপক্ষের সাথে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরে এলাকাবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় পুলিশের উপর হামলা করে গাড়ি ভাংচুর ও শর্টগান ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বন্দর থানার এস আই মো: আলী বাদি হয়ে ২৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো দুই/তিনশ’ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া একজন নিহতের ঘটনায় পৃথক আরেকটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে। সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় কোন পুলিশ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, এই ঘটনায় সঠিক তদন্তের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে প্রাথমিকভাবে বন্দর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত হারুন অর রশিদ থানার দায়িত্বে রয়েছেন ।









Discussion about this post