এনএনইউ রিপোর্ট :
সিদ্ধিরগঞ্জে শিশু তানজিলকে বলৎকারের পর হত্যাকান্ডের সকল তথ্য স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে ঘাতক নাজমুল ইসালাম রাজু । নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরের আদালতের খাস কামড়ায় রোববার ২০ জানুয়ারী বিকাল চারটায় অকপটে হত্যাকান্ডের বিষয়ে বর্ণনা দেয় ঘাতক নাজমুল ইসালাম রাজু।
আদালতে দেয়া ঘাতকের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি গাজা সেবন করে সন্ধ্যায় ৬ টায় সে ২০ টাকা প্রলোভন দেখিয়ে তানজিলকে বলৎকারের উদ্দেশ্যে কৌশলে ডেকে ষ্টোর রুমে নিয়ে যায়। সেখানে বলৎকার করে আটকে রাখে। তানজিলের মা তাকে খোঁজাখোজি করে না পেয়ে ডাকাডাকি করতে থাকে। বলৎকারের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে শ্বাসরোধ করে শিশু তানজিলকে হত্যা করে ।
লোমহর্ষক শিশু তানজিলকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় রোববার ২০ জানুয়ারি দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ শিশু তানজিলকে বলৎকারের পর হত্যাকান্ডের বিষয়ে আসামী গ্রেফতার ও তার ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তির বিষদ বর্ণনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
পরে তার লাশ ষ্টোর রুমে কাথা দিয়ে পেচিয়ে মেঝেতে রেখে বড় ড্রামে দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর রাতের যে কোনো সময়ে পালিয়ে যায় রাজু।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ কর্তৃক অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নাজমুল ইসালাম রাজু এ হত্যাকান্ডের আগে তানজিল মায়ের ডাকে সাড়া দিতে চাইলে নাজমুল ইসলাম রাজু প্রথমে তার মখু চেপে ধরে। এক পর্যায়ে বলৎকারের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে শ্বাসরোধ করে তানজিলকে হত্যা করে লাশ ষ্টোর রুমে কাথা দিয়ে পেচিয়ে মেঝেতে রেখে বড় ড্রামে দিয়ে ডেকে রাখে। এরপর রাতের যে কোনো সময়ে পালিয়ে যায় রাজু ।
উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ এলাকায় আলম খানের বাড়ির ভাড়টিয়া আনোয়ার হোসনের ছেলে তাজিল (৭) গত ১৬ জানুয়ারী (বুধবার) সন্ধ্যা ৬ টায় তার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।
তানজিলকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুজি করে না পেয়ে তার পিতা ১৭ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে। পুলিশ তানজিলের সন্ধানসহ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ওই দিনই বিকাল ৩ টায় তানজিলের লাশ আলমখানের বাড়ির একটি পুরাতন স্টোর রুমের মধ্যে থেকে টিনের ড্রাম দিয়ে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করে।
পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে আলমখানের বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া ও আলমখানের কথিত ম্যানেজার মোঃ নাজমুল ইসলাম রাজুকে গ্রেফতার করে। ঘাতক রাজু চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার গোবিন্দুপুর মাঠপাড়া গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ।
আদারতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির পর বিজ্ঞ বিচারক আহমেদ হুমায়ুন কবির ঘাতক নাজমুল ইসলাম রাজুকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।









Discussion about this post