৩৪ জনকে হত্যার নায়ক নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ ডুবিয়ে দেওয়া ‘এমভিএসকেএল-৩’ নামে আটক সেই কার্গো জাহাজটি শেখ লজিস্টিক কোম্পানির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। শেখ লজিস্টিক কোম্পানির মালিক বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়।
সোমবার দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সদর নৌ থানা পুলিশ জাহাজ মালিকের প্রতিনিধির কাছে জাহাজটি হস্তান্তর করেন। আর সেই আদেশেই মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল আলম নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট কে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে শেখ লজিস্টিক কোম্পানির জিম্মায় কার্গো জাহাজটি হস্তান্তর করা হয়েছে। কার্গো জাহাজ মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার আদালত কার্গো জাহাজটি কোম্পানির জিম্মায় দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। আজকে কোম্পানির কর্মকর্তা আদেশের কপি নিয়ে এলে আমরা কার্গো জাহাজটি দিয়ে দিই। আর এ কোম্পানির ও জাহাজের মালিক বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়।’
জাহাজের মালিককে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি জানান, ‘মামলাটি তদন্তনাধীন। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি প্রয়োজন মনে করেন তিনি সেটি করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চ ডুবে ৩৪ জন নিহতের মামলায় এমভিএসকেএল-৩ নামের কার্গো জাহাজটি জব্দ ও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হলে গত সপ্তাহে আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন ১৪ আসামি। আজকে আদালতের একটি আদেশের কপি পেয়েছি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে আটককৃত কার্গো জাহাজটি ‘শেখ লজিস্টিক’ নামে কোম্পানির। আর এ কোম্পানির মালিক হলেন বাগেরহাট-২ আসনের এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়। মালিকের পক্ষে শেখ লজিস্টিক কোম্পানির কর্মকর্তা প্রকাশ সরকারের কাছে কার্গো জাহাজটি জিম্মায় দেয়া হয়।’
মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও চার্জশিট কবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্তের অগ্রগতি আছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা শিগগির চার্জশিট জমা দেবো। এ মামলায় অনেক স্বাক্ষী তাদের সবার সঙ্গে কথা বলে এবং অনেকের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন আছে। সব মিলিয়ে চার্জশিট জমা দিতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।’
গত ৪ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ‘এমভি সাবিত আল হাসান’ লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ২০ মিনিট যাওয়ার পর সদর উপজেলার সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে পেছন থেকে ‘এমভি-এসকেএল-৩’ নামে একটি কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিলে লঞ্চটি ডুবে যায়। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। এমন ঘটনার সাথে সাথে রঙ পাল্টিয়ে এতোগুলো হত্যাকান্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালানোর পর আটক কার হয় জাহাজটি । মামলার পর কোস্টগার্ড মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার মেঘনা নদী থেকে এমভি-এসকেএল-৩ নামের কার্গো জাহাজ ও জাহাজের মাস্টারসহ ১৪ জনকে আটক করে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কোস্ট গার্ড।
এছাড়াও ঘটনার রাতে জেলা প্রশাসনের ৭ সদস্য ও বিআইডব্লিউটিএর ৫ সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৫ এপ্রিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আরো একটি ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।









Discussion about this post