মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে ৮/১০ বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডাইলপট্টি এলাকায় মুদির দোকানে চাকরী করলেও এখন তিনি কোটিপতি । থাকেন শহরের দামী আবাসন আল জয়নাল প্লাজায় বিশাল ফ্লাটে। সামান্য শারিরীক সমস্যায় দেশে কোন চিকিৎসা করান না তিনি । তিনি নারায়ণ সাহা । দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত নেপাল সাহার তিন পুত্রের মধ্যে অত্যান্ত ধুরন্ধর নারায়ণ সাহা কুমিল্লার হোমনা থানার বাঘমারা থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন পেটের দায়ে । সেই নারায়ণ এখন বিশাল নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসার মূল হোতা ।
আর নারায়ণগঞ্জে এই নিষিদ্ধ ব্যবসার কারণে পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা কতটা হুমকির মুখে পরেছে তা সহজেই অনুমান করতে পারছে নগর বাসী । সামান্য বৃস্টির ফলে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে ।
সরকারী বিধি নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে শুল্ক কাস্টমস, থানার ওসি, ডিবির ওসি পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিষিদ্ধ পলিথিনের কারবার চালিয়ে আসছে কয়েক বছর যাবৎ ।
এমন অভিযোগ ছাড়াও ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর শহরের বোস কেবিন সংলগ্ন ডিএম এন্টারপ্রাইজে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দাদের একটি টিম সাড়াসী অভিযান চালিয়ে কয়েক লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করে ঢাকায় নিয়ে যায় । ওই সময় ঢাকায় কর্মরত মুন্নী নামের এক প্রভাবশালী সাংবাদিকের জোড়ালো তদ্বিরে নিষিদ্ধ জব্দ করা পলিথিন ছাড়িয়ে এনে ফের বিক্রি করে নারায়ণ সাহা। সেই থেকে কাস্টমসকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে নিষিদ্ধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । একই সাথে এক মাস পূর্বে ঢাকার হোসনে দালান এলাকায় নারায়ণ সাহার নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা সিলগালা করলে সেই মুন্নীকে দিয়ে জোড়ালো তদ্বির এখনো অব্যাহত রেখেছেন। এমন অভিযোগের বিষয়ও প্রথমে স্বীকার পরে অস্বীকার করেন নারায়ণ সাহা।
শহরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বোস কেবিনের পাশে ডিএম এন্টারপ্রাইজ নামের ছোট্ট একটি দোকানে বসে পুরো নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিন কারবার নিয়ন্ত্রণকারী নারায়ণ সাহা নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট কে উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে প্রথমে নিষিদ্ধ কারবারের কথা স্বীকার করলেও পরক্ষণেই তা অস্বীকার করে চা এর দাওয়াত দেন প্রতিবেদককে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জ শহরের সনাতন পাল লেন এলাকার বোস কেবিনের পাশের গলিতে হোসিয়ারী পন্যের অন্তরালে নিসিদ্ধ পলিথিনের দানার রমারমা কারবারের পাশাপাশি নগরীর সৈয়দপুর কড়ইতলায় একাধিক অবৈধ নিষিদ্ধ পলিথিনের কারখানা, পুরান ঢাকায় হোসনে দালান এলাকায় ছোট ভাই রিপনকে দিয়ে কারাখানা পরিচালনাসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে নারায়ণ সাহা।
নারায়ণ সাহার নেতৃত্বে ডিএম এন্টারপ্রাইজে বসে নিষিদ্ধ পলিথিনের কারবারী স্বপন, ভোলা, গোপাল, সবুজ লিটন সাহা পাইকারী ও খুচরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মুঠোফেনের মাধ্যমে । নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসার এই চক্রের সদস্যদের কোন অবস্থাতেই বোঝার উপায় নাই এরা আইন বিরোধী কর্মকান্ডে সাথে জড়িত ।
আর নারায়ণ সাহার বিশাল এই নিষিদ্ধ পলিথিনের গোডাউন অত্যান্ত গোপনীয়তার সাথে ফকিরটোলা সমজিদের পিছনে রাজার – শ্যামলের বাড়ীতে মজুদ রেখে কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । রাজা – শ্যামলের বাড়িতে নিষিদ্ধ এই গোডাউনের পাশাপাশি খানপুর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ভিতরে ভাড়ায় চালিত একটি গার্মেন্টস কারখানার গোডাউনে রেখে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও চাউর রয়েছে শহরব্যাপী ।
এমন অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিনের কারবারী নারায়ণ সাহার মুৃঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর কাছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসাসহ সকল অভিযোগ স্বীকার করলেও ৫ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের কথপোকথনের শেষ পর্যায়ে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নারায়ণগঞ্জে সকল পলিথিন ব্যবসায়ীরা যেভাবে ব্যবসা করেন সেইভাবেই তারাও ব্যবসা করেন বলে দাবী করে প্রতিবেদককে চা খাওয়ার জন্য তার প্রতিষ্ঠান ডিএম এন্টারপ্রাইজে আমন্ত্রণ জানান।
এমন অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট কে বলেন, এই নিষিদ্ধ পলিথিন কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। মোবাইল কোর্ট করেন জেলা প্রশাসক অফিস । তাদের কে একটু বলেন । তথ্য পেলে কোন অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না সে যেই হোক ।









Discussion about this post