এনএনইউ রিপোর্ট :
র্যাব-১ এর সদস্যরা ব্যাপক তদন্ত ও অসংখ্য অভিযোগের পর রূপগঞ্জে র্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ।
রোববার (২৭ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ইসলামবাগ এলাকার একটি মেহগনি বাগান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, দইুটি ম্যাগজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ৪ টি মোবাইল ফোন, দইুটি মোটর সাইকেল, একটি পাসপোর্ট ও নগদ ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- রূপগঞ্জের মর্তোজাবাদ এলাকার মাসুদ মিয়ার ছেলে মোঃ আতিকুর রহমান সোহেল (২৫), মোঃ আবু মিয়ার ছেলে মোঃ নাজমুল হোসেন (২৪) মোজ্জাম্মেল হকের ছেলে মোঃ রাব্বি হাসান (২৩) এবং শিংলাবো এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মোঃ সোহান ভূঁইয়া রাফি (২৩) ।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্টে কর্ণেল মোঃ সারওয়ার-বিন-কাশেম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানানা।
প্রেস বিজ্ঞিপ্তিতে জানানো হয়, র্যাবের গোয়েন্দা টিম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারি একটি চক্রের সন্ধান পায়। তারা র্যাব পরিচয় দিয়ে মানুষকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপন আদায় করে আসছিলো।
এই চক্রটি সর্বশেষ চলতি বছরে ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের জনৈক সোহেল রানা দুপুরে দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে সিএনজি যোগে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথে ৪/৫ জন ব্যাক্তি নিজেদের র্যাব পরিচয় দিয়ে সিএনজি গতিরোধ করে। সোহেল রানাকে তারা একটি মোটরসাইকেলে তুলে ভুলতা গাউছিয়া সড়কের একটি নির্জনস্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে তার কাছ থেকে নগদ ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে সোহেল রানার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে আরো ৭০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে সোহেল রানা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন, যার নম্বর-১৪২৪। বিষয়টি ২১ জানুয়ারি সোহেল রানা র্যাব-১ বরাবর লিখিতভাবে জানালে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে এই চক্রটির সন্ধান পায়। পরে র্যাবের গোয়েন্দা টীম এই চক্রটিকে নজরদারিতে রাখে।
র্যাব-১ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, এই চক্রের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে। তারা র্দীঘদিন দরে র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। র্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আছে বলে তারা র্যাবের নাম ব্যবহার করে সহজে মানুষকে কব্জায় আনতে পারে।
চক্রটি বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদন স্পটে গিয়ে মানুষকে অনুসরণ করে। পরে সুযোগ বুঝে ভিকটিমকে নির্জনস্থানে তুলে এনে অস্ত্রসস্ত্র প্রদর্শন করে নগদ টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যেতো।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ভাংচুরসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও র্যাব প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।









Discussion about this post