একদিকে সূতা সংকটে কারণে পোষাক শিল্পে চরম লোকশানের আশংকা করছেন তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার) কারখানার মালিকরা । অপরদিকে নাারয়ণগঞ্জে একেবারের প্রকাশ্যেই বুক ফুলিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে চোরাই সূতার রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে টানবাজারের চিহ্নিত চক্রটি ।
এদের মেধ্যে সূতা চোই কারবারের অন্যতম হোতা হাজী বিল্লাল, হাজী ইসমাইল, ফরহাদ, সুব্রত রায়, বিপুল মন্ডল, পুলক চৌধুরী, জহির হোসেন, মো. আওলাদ হোসেন, আমিন উদ্দিন, গোবিন্দ সাহা, সেলিম রেজা, ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এর সহ সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া, নজরুল ইসলাম, ফরহাদ, আমিন উদ্দিন, আইয়ুব আলী, মোঃ সেলিম, সমির সাহা ও রুহুল আমিন ও কুক্ষাত সূতা চোর চক্রের হোতা তোতা পুত্র মামুন ।
এই চক্রটির বিরুদ্ধ একাধিক মামলা থাকার পরও অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোয়ারা প্রদান করায় কোন অবস্থাতেই ঠেকানো যাচ্ছে না সরকারের বিশাল রাজস্ব ফাঁকি দেয়া এই চক্রটিকে । যারা এখনা নারায়ণগঞ্জের টানবাজার, নিতাইগঞ্জ, মন্ডলপাড়াসহ আশেপাশের অনেক এলাকায় বিশাল বিশাল গোডাউন ভাড়া নিয়ে চালিযে যাচ্ছে রমরমা চোরাই কারবার । এই চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিতে বিকেএমইএ এর স্বচ্ছ হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী ।
একই সাথে ইয়ার্ণ মার্চেন্টের কিছু অসাধু নেতা সূতার চোরাই কারবারীদের শেল্টার দেয়ায় তাদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতেও জোড়ারো দাবী রেয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ
দেশের বাজারে অস্বাভাবিকভাবে সুতার দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার) কারখানার মালিকেরা। সুতার সংকটে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করা ও ক্রয়াদেশ বাতিলেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ তিন দেশের একটি বাংলাদেশ। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে ভিয়েতনাম উঠে এলেও বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত এখনো তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাকের ভেতর নিট পণ্যের অংশ প্রায় ৫০ শতাংশ।
আর নারায়ণগঞ্জে দেশের অধিকাংশ নিট কারখানা অবস্থিত। জেলায় পাঁচ শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে, যার বেশির ভাগই নিটওয়্যার প্রস্তুত করে থাকে। সুতার দাম বৃদ্ধির ফলে এরা সবাই কম–বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে।
করোনার কারণে চীনের অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে সেগুলো বাংলাদেশে আসতে থাকায় আশার আলো দেখেছিল দেশের পোশাক কারখানা ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত অর্ডার থাকলেও সুতার মূল্যবৃদ্ধি এবং সংকটের কারণে চাহিদামাফিক পোশাক তৈরি করতে পারছেন না মালিকেরা। এতে সামনে অনেক ক্রয়াদেশ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করছে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মূলত পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চীন ও বাংলাদেশের স্পিনিং মিলের মালিকদের জন্যই এই কৃত্রিম সুতার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। পোশাক কারখানা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের পোশাক কারখানাগুলোতে যখন প্রচুর অর্ডার আসল, ঠিক তখনই স্পিনিং মিলের মালিকেরা কৃত্রিমভাবে সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি চীনা ব্যবসায়ীরাও ভারত থেকে সব (শতভাগ কটন) সুতা কিনে নিয়ে স্টক করে ফেলেছেন। তাই প্রচুর ক্রয়াদেশ আসার পর আমরা যে সুযোগটা দেখেছিলাম, সেটি এখন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা সুতার অভাবে ঠিকমতো কাপড় তৈরি করতে পারছি না। আর এ জন্য আমি সবচেয়ে বেশি স্থানীয় স্পিনিং মিলের মালিকদেরই দায়ী করব।’
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় (বিসিক) অবস্থিত এমবি নিট ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আমার তিনটি অর্ডার শিপমেন্ট করার কথা। কিন্তু আমাদের এখানে সুতার সংকটের কারণে এই তিনটি শিপমেন্টের সব কয়টি এখন অনিশ্চয়তায় আছে। আমার ক্রেতারা ইতিমধ্যে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, আমি সময়মতো পোশাক পাঠাতে পারব কি না, নইলে সে অর্ডার বাদ দিয়ে দেবে। আর এই অর্ডার যদি বাদ দিয়ে দেয়, তাহলে আমার প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাবে; যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।’
এদিকে পোশাক কারখানার মালিক দেওয়ান জাহিদুল বলেন, ‘একটা অর্ডার শুরু থেকে দাম নির্ধারণ করে উৎপাদনে যাওয়া পর্যন্ত বেশকিছু সময় লাগে। দেখা গেল সুতার যে দামটা ধরে আমরা মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, ক্রয়াদেশ পেতে পেতেই সুতার দাম বেড়ে যাচ্ছে; ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এমনকি চাহিদামতো সুতাও পাচ্ছি না বাজারে। এতে শিপমেন্টে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্রেতার ক্রয়াদেশও গ্রহণ করতে পারছি না। তবে সুতার সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ও দাম কমে গেলে আশা করি এই সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে। আর আমরা বিকেএমইএকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা স্পিনিং মিলের মালিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করবে আশা করছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তুলা আমদানিকারক জানান, করোনা মহামারির জন্য উৎপাদন কমার বিষয়টি তো আছেই। এ ছাড়াও জাহাজসংকট একটি বড় কারণ। যে তুলা আগে এক মাসেই পেয়ে যেতাম, সেটা এখন তিন মাস লাগছে। তা ছাড়া ভারত তাদের দেশে আমদানি করা তুলার ওপর শুল্ক আরোপ করায় তাদের নিজেদের উৎপাদিত তুলার চাহিদা বেড়ে গেছে। অন্য সময় আফ্রিকান দেশের তুলার দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় আর অন্যান্য দেশের তুলার দাম সমান হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও হাজি হাশেম স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘সুতার সংকট স্পিনিং মিলের মালিকেরা তৈরি করেননি। এটা তুলার দাম ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বেড়েছে ও সরবরাহ খুব কম। আমরা কীভাবে সুতা তৈরি করব। আগামী তিন মাস পর্যন্ত তুলার কোনো এলসি নেবে না। তিন মাস পর এলসি খুললেও সেই সুতা হাতে পাব সামনের বছর। আমরা কীভাবে তাহলে সুতার সরবরাহ বাড়াব।’
তুলার এই সংকটের কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। শিপমেন্টের জন্য ভেসেলের সংকটও রয়েছে। ফলে সময়মতো তুলা আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’









Discussion about this post