আগুন বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার বহন করার অঙ্গীকারনামায় সই করে, ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে নিজেদের অবৈধ ভবনকে বৈধ করে নিয়েছে হাসেম ফুডস।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক দিনমনি শর্মা প্রথমে ছয় মাস, তারপর আবার দুই বছরের জন্য ভবনটিকে ছাড়পত্র দেন। যাকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলছেন, কারখানা ও শ্রমিক নিরাপত্তা আইন বিশেষজ্ঞরা।
অন্য সব আগুনের ঘটনার মতো, হাসেম ফুডস কারখানায় আগুন ও ৫১ জন মারা যাবার পর পর এই ভবনের নকশা নিয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন আছে কিনা সেই প্রশ্ন ওঠে।
আর, তার অনুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ পাওয়ার মতোই- অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করার বেআইনি সব নথি বেরিয়ে আসে।
ভবনের নকশা অনুযায়ী, ভবন থেকে বের হওয়ার জরুরি কোনো নির্গমন পথ বা সিঁড়ি ছিল না। ৩৬ হাজার স্কয়ার ফুটে কমপক্ষে চারটি সিঁড়ি থাকার নিয়ম, অথচ ছিলো দুইটি।
খোলা জায়গায় ছিলো গুদাম। ভবনের ভেতর ৩০০ কিলোওয়াটের বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন। ভবন লাগোয়া তিনটি বয়লার। জেনেশুনে সেই নকশায় অনুমোদন দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
যে কোন কল-কারখানার ভবন নির্মাণের আগে ফায়ার সার্ভিসসহ ২৩ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেয়ার কথা।
এক্ষেত্রে ভবন তুলে কারখানা- ব্যবসা চালুর চার বছর পর ২০১৮ সালে ছাড়পত্র দেন দিনমনি শর্মা। তখনই এই বিভাগের জানা ছিলো অনিয়মের তালিকা। যার বিপরীতে মিলেছে তিনশ’ টাকা স্ট্যাম্পের অঙ্গীকারনামা।
আবার, এই স্মারক নাম্বারে একই কর্মকর্তা- নকশায় কোনো পরিবর্তন না করা হলেও অনুমোদনের মেয়াদ বাড়ান তিন বছর।
এদিকে, নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ফায়ার সেফটি সলিউশান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত ভৌমিক বা প্রকৌশলীর কোনো নিবন্ধন নাম্বার নেই নকশার সাথে।
গত আট জুলাই হাসেম ফুডসের কারখানায় আগুনে ৫১জন পুড়ে মারা যায়। এ সময় চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, তার ছেলে তাওসীফ ইব্রাহিম ও তানজীব ইব্রাহিম, তারেক ইব্রাহিমকে আসামী করে হত্যা মামলা হয়।
কিন্তু, দুই দিনের মধ্যা নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত লাশ হস্তান্তরের আগেই জামিন দেন সব মালিককে।
সূত্র : একাত্তর টিভি









Discussion about this post