বিশেষ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে যুবায়ের হোসেন নামে এক হকার নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধু পৌলের গীর্জার সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবায়ের সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার উত্তর মাসদাইর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তার লাশ রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে বছর জুড়েই থাকে অবৈধ হকারদের রাজত্ব। পুরো ফুটপাত থাকে তাদের দখলে। ফুটপাতে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় জনবহুল জায়গায় দোকান বাসনো নিয়ে হকারদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল রয়েছে। এ নিয়ে ইতিপূর্বে হকারদের মধ্যে হাতাহাতির বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সাধু পৌলের গীজার সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে হকার স্বপন ও সাইদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হলে একপক্ষ ফোন করে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী ডেকে নিয়ে আসে।
পরে দ্বিতীয় দফায় মারামারি হলে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে যুবায়ের নামে এক হকার আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, আমরা নিহতের নাম পরিচয় জেনেছি। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ কপ্রার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। হত্যাকান্ডের বিষয়ে তদন্তসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এই হত্যাকান্ডের পর আতংকে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের শতাধিত হকার পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ, নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক দলের অসাধু নেতা, পুলিশের অসাধু কর্মকর্তা ও বিশেষ পেশার কয়েকজন কে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে দখলদাড়িত্ব চালিয়ে আসার কারণে ভয়ংকর অপরাধীতে পরিনত হয়েছে হকাররা । মুলতঃ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকে মোটা অংকের মাসোহারা প্রদান করায় শহরের ২০/২৫ জন লাইনম্যান ফুটপাতে হকারের অন্তরালে লোমহর্ষক নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে আছে ।









Discussion about this post