নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আলী আহাম্মদ চুনকা এবং সামসুজ্জোহা কাকা একসাথে মিলেমিশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ছিল কিন্তু সংঘাতময় রাজনীতি তারা করেননি। আমি সকলকে আহবান জানাবো, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে থাকুক, সংঘাত পরিহার করি। আসুন আমরা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করবো, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবো, নৌকার আওয়ামী লীগ করবো। কোনো ভাইয়ের, কোনো বোনের, কোনো কাকার রাজনীতি করবো না।’
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে দেওভোগের শেখ রাসেল নগর পার্কে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়।
সমাবেশে আইভী বলেন, ‘নাসিক মেয়র থাকাকালীন আমি শেখ রাসেল পার্ক তৈরি করেছি। এই শেখ রাসেল পার্কে প্রথম জনসভা আওয়ামী লীগের হলো, বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে করা হলো। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সূতিকাগার। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে লেখা আছে, পাইকপাড়ার একটি ক্লাবে আওয়ামী লীগ গঠনের প্রথম সভা হয়। যেটার আত্মপ্রকাশ হয়েছিল পরবর্তীতে রোজ গার্ডেনে। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী দাবি করি, আওয়ামী লীগের জন্ম এই নারায়ণগঞ্জে। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি নারায়ণগঞ্জে। এই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সূতিকাগার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বই লিখেছেন, “আমার বাবা” । সেখানে ৬ দফা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে ৬ দফা আন্দোলনের ঘোষণা হয়েছিল। ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিতে সকল ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৩ থেকে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করছি। ২০০১ এর পরে যখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে দুঃসময় ছিল তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ২০০৩ সালে আমি জয়ী হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে আমি নারায়ণগঞ্জের চাবি তুলে দিয়েছিলাম। ১৯৮১ সালে যখন জননেত্রী বাংলাদেশ আসেন তখন প্রথম জনসভা নারায়ণগঞ্জে হয়েছিল। তখন যেমন আমার পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জের চাবি তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, আমি সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি। ২০১১ সালে নির্বাচন করেছি, ২০১৬তে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেছি। এবারও আপনাদের সম্মুখে হাজির হয়েছি। আমাকে আপনারা দোয়া করবেন, আমি যেন নৌকার মান-সম্মান রাখতে পারি। আপনারা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা যেন পরাজিত না হই। সকল বাধা অতিক্রম করে ১৬ জানুয়ারি আমরা নেত্রীকে নৌকা উপহার দেব। আমাদের শেষ ঠিকানা শেখ হাসিনা, আামদের শেষ ঠিকানা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, আরজু রহমান ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান বাচ্চু, মো. আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ হায়দার আলী পুতুল, যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, গোলাম মর্তুজা পাপ্পা গাজী প্রমূখ।









Discussion about this post