“একজন মুসলমান হিসেবে আমি যদি লা ইলাহা ইল্লালাহ না বলি তাহলে তো আমার ঈমানই নাই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে আমি ৭টা মসজিদ বানাইছি। আমার বাবা থেকে আমি যে জমি পেয়েছি সেটাও আমি মাদ্রাসাকে দান করে দিয়েছি। আমি যেখানে ইসলামের এত খেদমত করছি সেখানে আমাকেই কাফের ফতোয়া দেয় হচ্ছে। নির্বাচন এলেই একটি শক্তিশালী পক্ষ আমার পিছনে লেগে যায় । যারা নিজেদের ফায়দা ও স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনীতি করেন তারাই আমার পিছনে এভাবেই চক্রান্ত করে ।”
এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মুজিব শতবর্ষ ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে বন্দর উপজেলার গকুল দাসেরবাগ চাপাতলী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে কথা বলেন সদ্য সাবেক নাসিক মেয়র ও মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ।
প্রগতি সংঘ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র চিকিৎসক আইভী বলেন, সেদিন আমি বলেছিলাম, আমার জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত আমি যেন জয় বাংলা বলতে পারি, বঙ্গবন্ধু যেন হয় আমার শেষ ঠিকানা। আমার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি আওয়ামী লীগ করবো, পিছ পা হবো না। আমার এই কথাটাকে, একটা রাজনৈতিক বক্তব্যকে অসম্ভবভাবে বিকৃত করেছে। এখানে রাজনীতিকে ধর্মের মধ্যে নিয়ে এসেছে। ধর্মীয়ভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভুল হইলে আমারে অবশ্যই বলবেন কিন্তু অপপ্রচারে কান দিবেন না। নির্বাচন আসলেই একটি বিশাল শক্তি যারা বিভিন্নভাবে নিজেদের ফায়দার জন্য, স্বার্থের জন্য রাজনীতি করে, তারা আমার পিছনে দাঁড়িয়ে যায়। আজকে যা হচ্ছে সেটার পেছনে অনেকের হাত আছে। আমি অতকিছু ভাবতে চাই না৷ আমি উন্নয়ন নিয়া ছিলাম, উন্নয়ন নিয়া থাকতে চাই। নেত্রীর আদেশ ছিল, তুমি কাজ করো, রাজনীতি আমি বুঝবো। আমি সেভাবেই কাজ করেছি।’
আইভী বলেন, ‘আজ যে মাঠে আছি সেটা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের করা। কাজ করতে গিয়ে দলমত দেখি নাই, দল-মত নির্বিশেষে কাজ করেছি। ট্যাক্স আপনারা সকলেই দেন। রাস্তা করার সময় ভাবিনি এখান দিয়ে আওয়ামী লীগ হাঁটবে না বিএনপি, মাঠ করতে গিয়ে ভাবিনি এখানে কে খেলবে। সকলের জন্য সমানভাবে কাজ করেছি সুতরাং সকলেই আমার জন্য সমানভাবে দোয়া করবেন।`
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, `আপনাদের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আপনারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও আপনারা লড়াই করেছেন। আপনাদের আদর্শ করেই আমরা বেঁচে থাকতে চাই। আমি গর্ববোধ করি আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। আপনাদের দেখলে আমার বাবার কথা মনে পরে। আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের দোয়া চাই। বঙ্গবন্ধু একটি দেশ, একটি ভূখন্ড দিয়ে গেছেন আর তার কন্যা অর্থনৈতিক মুক্তি আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আপনাদের ভাতা ৩০০ টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল এখন ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স করে দিয়েছেন, আপনাদের সন্তানদের জন্য কোটা সিস্টেম করেছেন। সকল ধরনের সুবিধা দেয়ার জন্য। শহীদদের কবর খুঁজে খুঁজে পাকা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে কবরস্থানে সংরক্ষিত জায়গা রেখেছি। যাতে আপনাদের চিরস্মরণীয় করে রাখতে পারি। আমি ট্যাক্স ও পানির বিল আগেই মওকুফ করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সকল কাজ আপনাদের কথা ভেবেই করেন। আমাদেরও সেই দিকনির্দেশনা আছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি রাস্তা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করতে হবে, আপনাদের যতটুকু সুযোগ সুবিধা দেয়া যায় সেটা করতে হবে। আমারা চেষ্টাও করেছি, ভবিষ্যতে যদি সুযোগ দেন তাহলে আরো করবো।`
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন৷ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহাম্মদ চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত তেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করনে ৷









Discussion about this post