এনএনইউ রিপোর্ট :
অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না । কোন তদ্বির শোনা হবে না । সে যতই প্রভাবশালী হউক কোন অপরাধীকে ছাড়াতে তদ্বির করলে সরাসরি পুলিশ সুপারকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন । নারায়ণগঞ্জের পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে । জেলায় দায়িত্বরত সকল কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে এসপি হারুন অর রশিদ এমন ঘোষনার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় প্রভাবশালী চাচা ভাতিজা সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না ও বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেনের সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুমুল দ্বন্ধের ঘটনা ঘটে ।
এমন ঘটনায় সদর থানা পুলিশ প্রথমে ঢিলেতালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আটক করা হয় প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরসহ ২২ জনকে।
এমন ঘটনায় ধমকে যায় সকল শহরে আধিপত্য বিস্তারকারীদের উত্তেজনা । জেলার পাইকারী ব্যবসায়ী এলাকা নিতাইগঞ্জে সকাল থেকেই শুরু হয় নানা গঞ্জন । অনেকেই বলেছেন পুলিশ সুপারের এমন পেশাদারিত্বমূলক নির্দেশের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে । নইলে আরো ভয়াবহ অবস্থা হতে পারতো । 
এমন ঘটনায় পুলিশ সুপার কার্য়ালয় থেকে প্রেরিত এক ই মেইল বার্তায় জানানো হয় : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ১৮ নং ওয়ার্ড এর সাবেক কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না ও বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেন’দের মধ্যে গভীর রাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। প্রকাশ থাকে যে, গত ১৬/০২/২০১৯ তারিখ ০৮;৩০ ঘটিকার সময় এশার নামাজের পর শহরের নলুয়া এলাকায় জামে মসজিদে উন্নয়ন মূলক বিষয় নিয়ে ১৮ নং ওয়ার্ড এর সাবেক কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না সভাপতিত্বে মসজিদ কমিটির মিটিং চলাকালীন সময় জনৈক টিপু (৩৫) কাউন্সিলর এর নিকট মসজিদের হিসাব নিকাশ চাইলে কাউন্সিলর উত্তেজিত হয়ে অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় টিপু’কে ঘাড় ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। টিপু মসজিদের বাহিরে এসে তার পক্ষের লোকজনদের একত্রিত করে এবং কাউন্সিলর কবির হোসেনকে সংবাদ দেয়।
এমতাবস্থায় মুন্না কমিশনারের ভাই রাজিবুল হাসান রানা(৩৮) তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা দাওয়া এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। তাৎক্ষণিক ভাবে সদর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এর জের ধরিয়া রাত্র অনুমান ০১.০০ ঘটিকার সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষে অর্থাৎ কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না ও কাউন্সিলর কবির হোসেন’দের সমর্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে একে অপরকে হামলা করে।
তাৎক্ষণিক ভাবে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম পিপিএম নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্স হতে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না ও কাউন্সিলর কবির হোসেন সহ ২২ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।
হামলায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের দুটি মামলা হয় এবং আসামীদেরকে অদ্য ১৮/০২/২০১৯ খ্রিঃ তারিখ ০৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। উক্ত ঘটানার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সদর থানার ওসি কে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ প্রদান করেন এবং বলেন যে কোন প্রকার তদবির শোনা হবে না। অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না সে যেই হোক না কেন।









Discussion about this post