নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে একই পরিবারের পাঁচজন নিখোঁজের ঘটনার ১০দিন পর চারজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহকর্তা গামেন্টর্স কর্মকর্তার জামাল সরদারের স্ত্রীসহ ৫ জন নিখোঁজের একটি জিডির সূত্রধরে পুলিশ ৪ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতরা হলেন ওই গামেন্টর্স কর্মকর্তার মেয়ে আশামনি (১১), প্রিয়া মনি (৪) ও তার ভায়রার মেয়ে সুমাইয়া (১৪) ও স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলে মো: নাজিম উদিনি (৯)।
তবে, গার্মেন্টস কর্মকর্তা জামাল সরদারের নিখোজ স্ত্রী ফরিদা বেগম নিপা সত্যিকার অর্থে নিখোজ ছিলেন না। তিনি পরকীয়া প্রেমের জের ধরে সুমন নামে এক ছেলের সাথে পালিয়ে যান।তাদের উদ্ধার করতে পুলিশী তৎপড়তা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ রাজধানীর কেরানীগঞ্জ ও ব্রাক্ষনবাড়িয়া থেকে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। তবে বিষয়টি পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পরিকল্পিত আত্মগোপনের ঘটনা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৪ জনকে উদ্ধার করার পর বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্ট কর্মকর্তার স্ত্রী নিখোঁজ নয় পরিকীয়া প্রেমিক সুমনের হাত ধরে ঘর হতে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব নিমাইকাসারী মাদানীনগর নুরবাগ এলাকায় একটি বাড়ি থেকে জামাল সরদার এক গামেন্টর্স কর্মকর্তার স্ত্রী ফরিদা ওরফে নিপা, মেয়ে আশামনি, প্রিয়া মনি ও তার ভায়রার মেয়ে সুমাইয়া ও শালার ছেলে আজিমসহ ৫জন নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গামেন্টর্স কর্মকর্তা জামাল সরদার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৩ ফেব্রুয়ারী একটি জিডি করে যার নং-৬৯২।

ওই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের নির্দেশক্রমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মীর শাহীন পারভেজ এর নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই শামিমসহ একাধিক টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জিডির বাদি মোঃ জামাল সরদারের স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলে নিখোঁজ মোঃ নাজিম উদ্দিনকে ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ ইকুরিয়া এলাকার নূরআনী মাদ্রাসা হইতে, অপর নিখোঁজ বড় মেয়ে আশা মনিকে বি-বাড়িয়া জেলার ল্যাবরেটরী আবাসিক স্কুল হইতে, তার ছোট মেয়ে প্রিয়া মনি ও ভায়রার মেয়ে সোমাইয়াকে কেরানীগঞ্জের একটি এলাকা হইতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ পেশাদারিত্বের সহিত কাজ করে উক্ত পরিবারের চার জন সদস্যকে উদ্ধার করেছে। মামলার রহস্যও উদঘাটন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে পারিবারিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।
প্রত্যেক পরিবারের পিতা-মাতাকে সন্তানদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে হবে। পারিবারিকভাবে নৈতিক শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভিকটিমদেরকে আইন মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে আদালতের ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট (এনএনইউ) কে বলেন, আজ বুধবার ২০ ফেব্রুয়ারী ভিকটিমদের আদারতে পাঠানো হয় নাই । আরো এক ভিকটিম উদ্ধার বাকী রয়েছে । আলোচিত এমন ঘটনায় পুলিশ সুপারের তদারকিতে উদ্ধার হয়েছে চার জন । বাকী একজনকে উদ্ধারে চষ্টো চলেছে বলে শুনতে পেরেছে । হয়তো বৃহস্পতিবার ফাষ্ট আওয়ারে পাঠাতে পারে ।









Discussion about this post