দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মশার কয়েল ও মুড়ি তৈরীর কারখানাসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র নানাভাবে ফায়দা আদায় করে আসছিলো । এমন তিনটি কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি।
এমন ঘটনাকে বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষনিকভাবে ‘লোক দেখানো অভিযান’ বলে মন্তব্য করে সকল অবৈধ সংযোগ ও সংযোগ প্রদানকারীদের গ্রেফতারের দাবী করেছেন অনেকেই
বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরার নেতৃত্বে উপজেলার গোকুল দাশেরবাগ এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় একটি কারখানাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও আরেকটি কারখানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানে নুরুজ্জামান চৌধুরির মালিকানাধীন আবিদ এন্ড ব্রাদার্স নামে মুড়ি উৎপাদনকারী কারখানাটির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানার সবগুলো চুলা ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং অবৈধভাবে তিতাস গ্যাসের সংযোগ নেয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে নগদ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আটককৃত দুই কর্মচারীকে এক মাসের জেল প্রদান করা হয়। কর্মচারীদের জেল দেয়ার ঘটনায় অনেকেই বলেছেন, মূল মালিককে গ্রেফতার করা কি খুব কঠিন কাজ ? তাকে গ্রেফতার করে কঠিন সাজা দিলেই সকল অপরাধীরা (অবৈধ সয়ংযোগ গ্রহণকারীরা) নিজেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতো । মূল মালিক কে আটক না করে দরিদ্র কর্মচারীদের এমন সাজা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ? এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই ।
পরে একই এলাকায় শাহনাজ বেগমের মালিকানাধীন সাব্বির কেমিক্যাল ওয়ার্কস এর গুড ফাইট সুপার জাম্বো নামে মশার কয়েল উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। সেখানেও গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে তিতাস কর্তৃপক্ষ। এসময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ কারখানার মালিকের ছেলেকে আটক করে। পরে পার্শ্ববর্তী আরো একটি কয়েল কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিতাসের সোনারগাঁও আঞ্চলিক বিপনন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সুরুজ আলম জানান, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ পাইপ ও রাইজাররের মাধ্যমে গত কয়েক বছর যাবৎ অবৈধভাবে উচ্চ চাপের গ্যাস সংযোগ নিয়ে উৎপাদন অব্যাহত ছিল। প্রতি মাসে তারা কমপক্ষে তিন থেকে চার লাখ টাকার গ্যাস চুরি করে আসছে।
তিনি জানান, এসব কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাইপ ও রাইজারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পর্যায়ক্রমে এই অঞ্চলের সকল অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিতাসের এই কর্মকর্তা।
এমন সাড়াসী অভিযানকে সাধুবাধ জানিয়ে অনেকেই আরো বলেছেন, দেশের এই তিতাস আমাদের অমূল্য সম্পদ । এই সম্পদ কারা এবং কি কি পন্থায়, কোন কোন কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর যাবৎ তিতাসকে লুটপাটের আথড়ায় পরিণত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন তাদের খোজ করে আইনের আওতায় আনা হলেই বন্ধ হবে তিতাসের অবৈধ সংযোগ । নইলে এই অভিযানের পর আবার যেই লাউ সেই কদু !









Discussion about this post