স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল ইসলামকে উচ্চ আদালতের আদেশে ক্লোজ করা হয়েছে ।
সদর থানার এএসআই রুবেল সোহওয়ার্দীসহ কয়েকজন পুলিশ ৫০ হাজার পিছ ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়ি থাকার অভিযোগে গ্রেফতারের পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ।
এ ঘটনায় দায়েরকরা মামলায় উচ্চ আদালত শুনানীতে কি করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল এখনো বঞাল আছেন বলে জানতে চেয়ে রুল জারি করে এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্ট স্বশরীরে হাজির হতে আদেশ দেয় । একই সাথে ওসি কামরুলের অবস্থানের বিষয়েও জানেতে চায় আদালত ।
উচ্চ আদালত সকল বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল ইসলামকে ক্লোজড করার আদেশ দেয়া হয় ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রেস ব্রিফিং করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা পলিশের বিশেষ শাখার ডিআইও টু সাজ্জাদ রুমন ।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সরওয়ার্দীর বাসা থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) নাজিমউদ্দিন আজাদকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী ৪ মার্চ তাকে সশরীরে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত ইয়াবার মামলায় আটক আসামি পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন শুনানিতে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডি কর্মকর্তাকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।
নির্ধারিত দিনে সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী মাকসুদ আদালতে উপস্থিত হন। এরপর আদালত তার কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেদী জানান, এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে নেই। নারায়ণগঞ্জের এএসপি নাজিমউদ্দিন আজাদ এখন মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারে একটি অপারেশনে রয়েছেন। এরপর আদালত আগামী ৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জের এএসপিকে হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে মামলার শুনানি মুলতবি করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ ডিবি পুলিশ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এএসআই মোহাম্মদ সরওয়ার্দীর বাসা থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়।
এরপর ওই মামলার আসামি নারায়ণগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান ও এএসআই মোহাম্মদ সরওয়ার্দী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, এটি তারা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে করেছেন। তার নির্দেশেই টাকা ও ইয়াবা রেখে আসামিদের ছেড়ে দিয়েছেন।
এমন সকল বিষয় হাইকোর্টের নজরে আসার পর নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল ইসলামকে ক্লোজড করার আদেশ আসে পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে ।









Discussion about this post