একদিকে রাজধানী ঢাকা অপরদিকে সুনামগঞ্জে নানা দূর্ণীতির অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ মে) গণপূর্ত অধিদফতরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । অথচ নারায়ণগঞ্জের দূদক কার্যালয়ের সর্বোচ্চ ১ শ গজের মধ্যে নাারয়ণগঞ্জ জেলা প্রশসক কার্যালয়ে অর্থাৎ আদালত চত্তরে হাজারো আইনজীবীদের নাকের ডগায় সার্কিট হাউজের ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লুটপাটের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে নারায়ণঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ, অথচ এমন দূর্ণীতির বিষয়ে একেবারেই নির্বাক নারায়ণগঞ্জের দূদক।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজের ভিতরের চারিদিকের দেয়াল উচুঁ করার কাজ, সার্কিট হাউজের ড্রেন নির্মান, স্যানিটারী নবায়ন, টয়লেট নির্মানসহ ৭টি ভাগে ভাগ করা কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে কোন ধরণের টেন্ডার ছাড়াই ।
এমন কর্মযজ্ঞের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিযোগ, কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে শুধু মাত্র ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে দুইজন ঠিকাদারকে এই কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে দায়িত্ব দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সাইফুল ইসলাম।
নাম প্রকাশ না করা অনুরোধে নারাযণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের একজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবেই নিয়ম না মেনে পছন্দ মতো ঠিকাদারদের ডেকে এনে শতকরা ২৫ শতাংশ অর্থ কাজের পূর্বেই স্টাফ অফিসার, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সাইফুল ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব ভাগভাটোযার মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞের আদেশ দেয়া হয় মৌখিকভাবে।”
মুঠোফোনে ৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আলোচনায় এই কর্মকর্তা আরো বলেন, “লুটপাটের মহোৎসব চলছে এই গণপূর্ত দপ্তরে। যার খোজ কেউ রাখেন না।”
এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সাইফুল ইসলাম অসংখ মুঠোফোনে ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডের আলোচনায় বারবার বলেন, “ভাই আপনি অফিসে আসেন, অফিসে এসে আলোচনা করেন। মুঠোফোনে এমন তথ্য দিতে পরবো না।”
পরবর্তীতে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সাইফুল ইসলামের হোয়াটস্যাপ ম্যাসেঞ্জারে “আসসালামু আলাইকুম ভাইজান, আমি সাংবাদিক ……………বলছি যা জানতে চেয়ে ফোন দিয়েছিলাম আপনাকে, সার্কিট হাউজের মেরামত কাজের প্রাক্কলনের একটি কপি ও কার্যাদেশের একটি কপি দয়া করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকিব। ধন্যবাদ।“
এমন বার্তার পর শনিবার (১৮ মে) এমন ম্যাসেজের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য আর করে নাই সাইফুল ইসলাম।
এমন দূর্ণীতির সংবাদ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পের্টাল ও দৈনিক সচেতন, দৈনিক ডান্ডিবার্তা, দৈনিক প্রতিদিনের নারায়ণগঞ্জ, দৈনিক উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নানাভাবে তোলপাড়ের সষ্টি হলে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে দালাল নিয়োগ করে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সাইফুল।
এমন ঘটনায় প্রতিবাদ লিপি প্রকাশ করতেও বিশেষ পেশার কিছু দালালদের দ্বরস্থ হন বলেও নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। নির্ভরশীল সূত্র থেকে আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব পূর্বের কর্মস্থলে নানা অর্থনৈতিক দূর্ণীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।









Discussion about this post