বাড়ির জমি লিখে না দেওয়ায় রূপগঞ্জে গরম পানি দিয়ে আছমা বেগম (৩০) নামের এক বিধবার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে দিয়েছে তারই দেবর আনিছুর রহমান ও দেবরের স্ত্রী রুমা বেগম।
এমন ঘটনার পূর্বে ওই বিধবাকে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে।
শুধু তাই নয়, বাড়ির জমি লিখে না দিলে এবং বাড়ি ছেড়ে না গেলে আছমা বেগমসহ একমাত্র ছেলে জুনায়েতকে (১৪) হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আছমা বেগম কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকার আফাজ উদ্দিনের মেয়ে।
আছমা বেগম জানান, গত ১৫ বছর আগে ইছাখালী এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে জুনায়েত নামের এক ছেলেসন্তান হয়। গত চার বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামী আলমগীর হোসেন মারা যান। বর্তমানে আছমা বেগম এলাকায় পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
এদিকে স্বামী মারা যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই দেবর আনিছুর রহমান ও দেবরের স্ত্রী রুমা বেগম মিলে বাড়ির জমিতে স্বামীর প্রাপ্ত অংশ জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে চাপও প্রয়োগ করে আসছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির জমি লিখে না দিলে সন্তান জুনায়েতকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাপ প্রয়োগ করে আনিছুর রহমান ও দেবরের স্ত্রী। এরপর আছমা বেগম জমি লিখে দেবেন না এবং বাড়ি ছেড়েও যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে। এছাড়া শ্লীলতাহানি করে। এক পর্যায়ে চুলায় থাকা গরমপানি ও গরম তরকারি শরীরে ঢেলে দেয়। এতে আছমা বেগমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আছমা বেগম আরও জানান, বাড়ির জমি লিখে না দিলে এবং বাড়ি ছেড়ে না গেলে আছমা বেগমসহ একমাত্র ছেলে জুনায়েতকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।









Discussion about this post