আনোয়ার হোসেন মোল্লা। জমি রেজিস্ট্রির কাজে রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান। কাজ শেষে সেখানেই একটি হোটেলে দুপুরের খাবার সেরে নেন। এর পর থেকেই আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেটের পীড়ায় ভুগছেন।
প্রায় এক সপ্তাহ পর সুস্থ হয়ে ওঠেন। শুধু আনোয়ার হোসেন মোল্লা নন। রূপগঞ্জের হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ নানা অসুখে ভুগছেন। কারণ এসব হোটেল-রেস্টুরেন্টের পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।
আর এসব প্রতিষ্ঠানে খুব কমই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কখনো উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা স্বাস্থ্য পরিদর্শক অভিযান পরিচালনা করলেও এতে ফল শূন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জের দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ৬ শর বেশি হোটেল-রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। উপজেলার ভুলতা-গোলাকান্দাইল ও পূর্বাচল উপশহরে সবচেয়ে বেশি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট।
এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটির লাইসেন্স রয়েছে। আর বেশির ভাগ হোটেল-রেস্টুরেন্ট চলছে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রূপগঞ্জের হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। মানুষ উপায় না থাকায় মুখ বুজে করছেন আহার। বেশির ভাগ হোটেলে খাবার তৈরি হচ্ছে পুরনো তেল দিয়ে ও খোলামেলা স্থানে।
বিশেষ করে রুটি, পরোটা, সিঙাড়া, পেঁয়াজু, বেগুনি ভাজা হচ্ছে একাধিকবার ব্যবহার করা তেল দিয়ে। ভাত, মাছ ও মাংসসহ হরেক রকমের খাবারের আরো খারাপ অবস্থা। হোটেলগুলোতে অল্প বেতনে শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। খাবার প্রস্তুত করার কক্ষগুলো বেহাল। থেমে নেই পচা-বাসি খাবার বিক্রি। দুপুরের মাছ চলে রাতেরবেলাতেও। আগের দিনের তরকারি কিংবা বিরিয়ানি খাওয়ানো হয় পরের দিন।
উপজেলার বেশির ভাগ খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্টগুলোর বাইরের দৃশ্য চকচকে থাকলেও খাবার তৈরির জায়গা দেখলে সচেতন মানুষ আঁতকে উঠবেন। ছোট হোটেলগুলোর চেয়ে অনিয়ম চলছে বেশি চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলোতে। চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও ভেতরে রান্নাঘরের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর।
উপজেলার রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিস এলাকা, ভুলতা-গোলাকান্দাইল, তারাব বিশ্বরোড, বরাবো, নগরপাড়া বাজার, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, বাবুর্চি ও রান্নার কাজে সহযোগীদের গা থেকে ঘাম ঝরে পড়ছে খাবারে।
বাণিজ্য মেলাঘেঁষা এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে এক হোটেলের সামনে কথা হয় ট্রাকচালক জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হাইওয়ে এলাকার হোটেলগুলো খুবই বাজে। আমরা না পারতে এহানে খাই। টেকা চিবাইয়া খাওয়ন লাগে। হোটেল খোলামেলা। মাছি ভনভন করতাছে। ধুলাবালি আইয়া মিশতাছে।’
রূপগঞ্জের সদর এলাকার আলমগীর হোটেলের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভাই আমরা পরিষ্কার থাকনের চেষ্টা করি। খাবার মজা অয়নের লেইগ্যা নানা কিছু করতে অয় ।
স্বাস্থ্য পরিদর্শক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, দুই পৌরসভার বাইরে শতাধিক হোটেল-রেস্টুরেন্ট রয়েছে। মোটামুটি সবার লাইসেন্স আছে। তবে যেগুলো নোংরা ও পরিবেশ খারাপ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভী ফেরদৌস বলেন, ‘হোটেলের পচা-বাসি ও ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ গ্যাস্ট্রিক, আলসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ইউএনও আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘যেগুলোর লাইসেন্স নেই কিংবা নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সেগুলোতে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। সূত্র : কালের কন্ঠ









Discussion about this post