“নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার মিল কারখানা, ডাইং, ব্যাটারী কারখানা, কয়েল কারখানা, চুনা ফ্যাক্টরীসহ অসংখ্য গার্মেন্টস ও কম্পোজিট কারখানায় প্রতিনিয়ত পরিশেষ ধ্বংশ করেই যাচ্ছে। আশ্চর্য্য হলেও সত্যি কোন কারখানা প্রতিমাসের মাসোয়ারা না দিলেই চলে অভিযান নামক নাটক। আর এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধুৃ সকল কর্মকর্তা কর্মচারী মাসোয়ারা আদায় করে একেক জন যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন ।
লোক দেখানো আর খোকা ভোলানো নাটক মনঞ্চায়ন করতে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধুৃ সকল কর্মকর্তা কর্মচারী কখনো পুলিশ কখনো র্যাব কখনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণদের ব্যবহার করে । এমন অভিযান নামক নাটক আবার প্রচার করতেও বিশেষ পেশাজীবীদের অনুনয় বিনয়সহ নানাভাবে ম্যানেজ করে ওই অসাধু চক্র। এভাবেই চলছে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান নামক নগ্ন কান্ঠ । এবার এই নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে বন্দর উপজেলায় । অথচ নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে বিশাল কম্পোজিট গার্মেন্টস ও ডাইং কারখানা বিরামহীনরভাবে বর্জ্য ফেলে পুরো এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভবে ধ্বংস করলেও এদিকে কোন খোয়াল ই নাই এই অসাধু চক্রের । এমনটিই বলেছেন ভূইঘর এলাকার বিক্ষুব্ধরা।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধুৃ কর্মকর্তা কর্মচারীদের এমন অভিনব নাটকের এবারের পর্বে এবার বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কেওঢালায় হিং সিং ব্র্যান্ডের স্টেলার ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানী লিমিটেড নামে পরিবেশ বিনষ্টকারী একটি ব্যাটারী কারখানা সিলগালা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার ইতি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা, স্থানীয় এলাকাবাসী ও মদনপুরের ছাত্রসমাজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ৪ বছর যাবৎ ব্যাটারী ফ্যাক্টরী থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়রা শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সে কারণে এ কারখানা বন্ধ করার দাবীতে গত রবিবার স্থানীয় এলাকাবাসী মদনপুরের ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন্দর ইউএনও সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই অভিযানের পর এলাকার অনেকেই বলেছেন, “এতাদিন কি চোখ বন্দ ছিলো নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ? নইলে এই চার বছর কি করে পরিচালিত হলো এই পরিবেশ ধ্বংসকারী মদনপুর ইউনিয়নের কেওঢালায় হিং সিং ব্র্যান্ডের স্টেলার ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানী লিমিটেড নামে পরিবেশ বিনষ্টকারী একটি ব্যাটারী কারখানা ?









Discussion about this post