নির্মমভাবে হত্যার পর কারাগারে থাকাবস্থায় নিজেকে পাগল প্রমাণ করতে নানা নাটকীয়তা করলেও শেষ রক্ষা হলো না মা ও অন্ত:স্বত্ত্বা মেয়ের হত্যাকারী জুবায়ের স্বপ্নীলের।
চাঞ্চল্যকর শহরের নিতাইগঞ্জের ওই (ট্রিপল মার্ডার) তিন হত্যা মামলায় আল জুবায়ের স্বপ্নীল (২৮) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদন্ডাদেশের পাশাপাশি জুবায়ের স্বপ্লিলের এক লাখ জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আল জুবায়ের স্বপ্নীল শহরের পাইকপাড়া এলাকার লবণ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের ছেলে।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রশিদ বলেন, মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আল জুবায়ের স্বপ্নীল নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২২ সালের ১ মার্চ বিকেলে শহরের একটি ফ্ল্যাটে রুমা চক্রবর্তী ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ঋতু চক্রবর্তীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই রক্তমাখা ধারালো ছুরিসহ হাতে গ্ল্যাভস পরিহিত আল জুবায়ের স্বপ্নীলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, পরে এ ঘটনায় রুমা চক্রবর্তীর স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মামলা করেন। সে মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আলোচিত সেই মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এএইচএম কামরুজ্জামান ফারুক। অভিযোগপত্রে একমাত্র আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারকৃত আল জুবায়ের স্বপ্নীলকে।
বিজ্ঞ বিচারক সারাবন তহুরা আদালতে রায় প্রদানের পর আইনজীবীদের অনেকেই বলেন, মূলত: জুবায়ের স্বপ্নীল উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী । সেই উগ্র মতাদর্শ থেকেই এমন নিরীহ মা ও অন্ত:সত্ত্বা মেয়ের উপর নগ্ন হামলা করে হত্যা করে ।









Discussion about this post