শামীম ওসমান । বিশ্বের কোথাও এই নামে আর কাউকে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে । এই নামে আর কাউকেই পাওয়া যায় নাই । তিনি নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের অন্যতম রাজনীতিবিদ। কলেজ জীবন সেই আশির দশক থেকে কখনো হাতে ব্যান্ডেজ, মাথায় ব্যান্ডেজ বেধেঁ কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে মিছিল করাকালীন সময়ে অনেকেই বলতেন, “জোহা সাহেবের ছোট পোলা কয়েকদিন পর পর এই রক্তমাখা ব্যান্ডেজ নিয়ে মিছিল করে কি বুঝায় ? ব্যান্ডেজের উপর রক্ত কি আসলেই তার রক্ত নাকি মুরগির রক্ত মেখে এই নাটক করতেছে ?“
এমন মন্তব্য ছিলো নগরীতে ব্যাপক চাউর। এরপর নানা চড়াই উৎরাই শেষে ১৯৯৬ সালে সর্ব কনিষ্ট সংসদ সদস্য হিসেবে আলোচনা উঠে আসেন শামীম ওসমান। শুরু হয় ওই সংসদ সদস্য থাকাকালে তার চার খলিফা ছাড়াও অগা মিঠু, হেলাল, সাজনু, নিজামসহ অনেকেই শহর দাবড়িয়ে বেড়াতো প্রকাশ্যে খোলা জিপের উপর দাড়িয়ে অস্ত্র নিয়ে। ওই গডফাদারের তকমা নিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমান পরাজিত হয়ে রাতের আধারে বোরকা পরে দেশ থেকে পালিয়ে যায় বলে ব্যাপক চাউর থাকলেও গত ১৫ বছরের শাসনামলে কোথাও এই বোরকার বিষয়টি পরিস্কার করে কিছু বলেন নাই আলোচিত সমালোচিত এই শামীম ওসমান।
১৯৯৬ সালের জুন থেকে ২০০১ সালের ওই সময় ই শামীম ওসমান “গডফাদার“ নামক পলক মাথার উপর ঠাঁই নেয় । তার পর আর এই গডফাদার নামক পলক আর ঝেড়ে ফেলতে পারেন নাই দীর্ঘদিন ২০০৯ সালে থেকে ২০২৪ সালের শাসনামলকালে। এই সময় তিনি (শামীম ওসমান) ও তারি পরিবারের সদস্যরা অপ্রতিরোধ্য আচরণ করেন সকলের সাথে । বিভিন্ন কাজের বস্তায় বস্তায় কমিশনের অনৈতিক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন যা ছিলো ওপেন সিক্রেট।
২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার দাপট এতোটাই ছিলো সংসদ সদস্য না হয়েও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভরা মজলিসে আপন চাচী সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরীর উপর হামলা করেন নগ্নভাবে। পরবর্তীতে সংসদ সদস্য হওয়ার পর দুই দফায় কি করেছেন তা এই নগরবাসীর সকলের অজানা নয়।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শামীম ওসমান সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে নির্বাচন করতে না পারায় সারাহ বেগম কবরী সংসদ সদস্য হলেও ওসমান পরিবারের সকলেই তার পরিবারের বধুকে নগ্নভাবে সম্বোধন করতেন সভা সমাবেশে। আর তখন শামীম ওসমান ই ছিলেন অলিখিত এমপি।
তিনি নানাভাবে আলোচনায় থেকেছেন । কখনো ৮০ রাকায়াত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার কথা বলে আবার কখনো প্রতিপক্ষ হউক আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি জামায়াত কে নিয়ে সকল সময় থাকতো আলোচনা সমালোচনায়। প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করতে গিয়েও ব্যাপক সমালোচনায় পরেছেন এই আওয়ামীলীগ নেতা । এসপি হিসেবে নারায়ণগঞ্জে হারুন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তুলোধুনো হয়েছেন। নেতাকর্মী ছাড়াও খোদ শ্যালক নানা অপরাধের হোতা তানভীর আহমেদ টিটুৃর মেরী এন্ডারসনের বিশাল মদের আস্তানায় হানা দিয়ে বিশাল মদ উদ্ধারের ঘটনায় তানভীর আহমেদ টিটুকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করলে এসপি হারুনের দপ্তরে গিয়ে কাছে মাথা নত করে মান সম্মান রক্ষা করতে দুই ভাই সংসদ সদস্য সেলিম ওসামন ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কাকুতি মিনতি করে রক্ষা পেয়েছেন বলেও সমালোচনা রয়েছে।
এমন ঘটনার পরও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ফেঁসে যান শামীম ওসমান। গিয়াস উদ্দিনও পাল্টা সমাবেশে শামীম ওসমানকে “পরিবার নিয়ে নেশাখোর’ এমন কঠিন মন্তব্য করে চাঞ্চল্যে ঝড় তুলেন। তখন থেকেই শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহকর্মীদের অনেকেই বলেন, “শামীম ওসমান চেইন স্মোকার। অয়ন ওসমানের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে সিগারেট খাওয়ার দৃশ্যই তার প্রমাণ। আবার সেই অবুঝ শিশুকে নিয়ে দাদা শামীম ওসমান হাতেখড়ি দেওয়ার সময় সেই সিগারেটের প্যাকেট ই প্রমাণ করে আসলেই শামীম ওসমান নেশা করেন কি না।
তৎসময়ে অনেকেই বলেছেন, “শামীম ওসমান সিগারেট যেমন খান তেমনই গাজা সেবন করেন এলাচি দারুচিনি দিয়ে মিশ্রণ করে। গাজার সিগোরেট তৈরী করে সেই সিগারেট পান করেন শামীম ওসমান।”
এবার ৫ আগষ্টের পর শামীম ওসমান স্ব পরিবার পূর্বের ন্যায় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার এক মাস পর অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে শামীম ওসমানকে ভারতের দিল্লির নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারে দেখা গেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় সংবাদ। এর ১৮ দিন পর এবার ফেসবুকের এইটি আইডিতে শামীম ওসমানের সামনে সাদা পানির গ্লাস, রঙ্গিন পানির গ্লাস, সিগারেটের প্যাকেট ও অঙ্গভঙ্গিতে প্রকাশ পায় তিনি মদ সেবন করতেছেন। এমন ছবি সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রকাশ হলে এই ছবি ঘিরে নগরীতে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে । অনেকেই বলেছেন, “শামীম ওসমান আসলেই একজন নেশাখোর ! ফটকাবাজ ! নাইলে ৮০ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ পরেন বলার পরেও তওবা করেন নাই !“
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সাত টায় নগরীর বোস কেবিনের আড্ডায় এমন মন্তব্য করে অনেকেই আরো বলেছেন, “শামীম ওসমান ও তার পরিবারের অত্যাচারে নারায়ণগঞ্জবাসী ছিলো অতিষ্ঠ । তার এই ছবি কি প্রমাণ করে না তিনি নেশাখোর ? তার নামাজের ঘটনা কি প্রমাণ করে না তিনি ফটকাবাজ ?“
তাৎক্ষনিকভাবে এই ভিড়িও সংরক্ষণে করেছে নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর এই প্রতিবেদক।









Discussion about this post