‘আবু সাঈদ বুকের রক্ত দিয়ে ভয়ের রাজত্ব ভেঙে দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশে ভয়ের রাজত্ব থাকতে পারবে না।’
এভাবেই শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণসংলাপ’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এমন মন্তব্য করেছেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, কারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
এই ঐক্য ভেঙে দিলে আবারও কোনো না কোনোভাবে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দেবে। এখনই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। এইটা না চাইলে জনগণের ঐক্য লাগবে। গণমানুষের স্বার্থের রাজনৈতিক শক্তি লাগবে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান যে ক্ষমতার কাঠামো দিয়েছে, তাতে মসনদে যে বসে সেই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। কারণ সব ক্ষমতা ওই একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত। বহুবার এই কথা আমরা বলেছি। সংবিধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন ক্ষমতা দিয়েছে, যার কোনো জবাবদিহি নেই, বরং তিনি সংবিধানের ঊর্ধ্বে।
জনগণের প্রতিনিধি সরকার জনগণের অধীন থাকবে সেই ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ বলে আসছি, বিদ্যমান রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফ্যাসিস্ট। এই বন্দোবস্ত ঘৃণা ছড়ায়। আমাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত লাগবে। আমাদের লাখো ছাত্র-তরুণরা এ দেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারও তাই বলছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যারা মাঠে এসে মানুষের ওপর গুলি করেছে, তাদের বিচার করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে নিপীড়ন করা যাবে না। রাজনৈতিক চিন্তা, আদর্শের পার্থক্য আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করেন। এইটার নামই গণতন্ত্র।’গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, ইসলামী আন্দোলনের মহানগরের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, জেএসডির মোতালেব মাস্টার,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহমুদ হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অন্যতম সংগঠক ফারহানা মানিক মুনা, গণসংহতির জেলা কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, মহানগরের সমন্বয়কারী নিয়ামুর রশীদ বিপ্লব, কবি আরিফ বুলবুলের বক্তব্যের পর জোনায়েদ সাকি আরো বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকদের অনেক ন্যায্য দাবি রয়েছে। তাদের ন্যায্য দাবি সমর্থন করি। কিন্তু গার্মেন্টস খাত দীর্ঘদিন বন্ধ রাখলে এই খাত টিকবে না। কারখানা চালু রেখেই দাবির পক্ষে লড়াই করবেন। কারো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে লড়াই ও সতর্কতা থাকতে হবে আমাদের।’
Discussion about this post