নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আন্ডারগ্রাউন্ডের ডন জিকে শামীমকে সংযুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা নানাভাবে চেষ্টা চালায় । যা এখনে অব্যাহত ছিলো । নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সারা দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগের টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রক জিকে শামীমকে গ্রেফতার করার খবরে অনেক ঠিকাদার ও সরকারী প্রকৌশলীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে । নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ঠিকাদার ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রকরা জিকে শামীমকে দিয়ে নানা অপকর্ম করাতো বলেও অভিযোগ উঠেছে । জেলার কয়েকজন ঠিকাদার ও আওয়ামীলীগ নেতার নামও উঠে এসেছে জিকে শামীমের সাথে সখ্যতার তালিকায় ।
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম থাকেন বনানীর ডিওএইচএসে। আর নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি তিনি তার জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন । শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) শামীমকে রাজধানীর নিকেতনের ১১৩ নম্বর বাসা থেকে আটক করা হয়।
সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ গ্রেফতার হওয়া জিকে শামীম এক সময় ছিলেন বিএনপির যুব সংগঠন যুবদল নেতা। পরে ভোল বদলে যোগ দেন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগে। বাগিয়ে নেন দলের পদ। হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী নেতা, বাগাতে থাকেন সরকারি টেন্ডার। এক সময় তার নামই হয়ে যায়, টেন্ডার শামীম।
যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিকে শামীম এক সময় যুবদল করতেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকও ছিলেন। ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ডান হাত। কিন্তু সদা ক্ষমতাপিয়াসী শামীম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পাল্টাতে থাকেন ভোল।
যুবদল ছেড়ে ভিড়তে থাকেন যুবলীগের দিকে। এক সময় পান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদকের পদ। তবে যুবলীগের নেতারা বলছেন আসলে তার যুবলীগের কোনো পদ নেই। তিনি নিজে নিজেই যুবলীগের নেতা এবং কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক দাবি করতেন। আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বলেও শোনা যাচ্ছে।
প্রতিটি সরকারি কাজের টেন্ডার ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এক সময় তিনি ‘টেন্ডার শামীম’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সব সময় তার সঙ্গে রাখতেন ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী।
জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগহ্জ জেলা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতারাই কোনো কথা বলতে চাননি।









Discussion about this post