এতোদিনে টনক নড়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষের।
সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে তিতাস গ্যাস পাইপ লাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়াকালীন সময়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৭ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হওয়ার চারদিন পর ঘুম ভেঙেছে তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁও জোনাল বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ আনোয়ারুল আজিমের।
সোনারগাঁও জোনাল বিপণন অফিসের এই ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ আনোয়ারুল আজিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে রাস্ট্রীয় অমূল্য সম্পদ তিতাস গ্যাস লুটপাটের ।
তিতাসের মুল পাইপ থেকে চোরাই সংযোগ দিতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনারগাঁও থানার ওসি মো. আব্দুল বারী।
জানা যায়, সোমবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় লাভলী সিনেমা হল সংলগ্ন শিশির জুয়েলার্স দোকানের সামনে গর্ত করে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইন থেকে ১৪-১৫ জনের একটি চক্র অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার কাজ শুরু করে। চোরাই সংযোগ নেয়াকালীন সময় আকস্মিক ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেখানে কর্মরত সাতজন শ্রমিক দগ্ধ হন।
তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁও জোনাল বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে সোনারগাঁও থানায় মামলাটি করেন।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব যায় নাই । তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, বর্তমানে সরকারিভাবে আবাসিকে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাই একটি চক্র সোমবার মধ্যরাতে কাঁচপুর সোনাপুর এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মামলার বিষয়ে সোনারগাঁও এলাকার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতোদিনে টনক নড়েছে তিতাসের সোনারগাঁও জোনের দূর্ণীতিবাজদের। পুরো সোনারগাঁও, বন্দর উপজেলা ছাড়াও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার নেপথ্যের কারিগরি করে সোনারগাঁও জোনাল বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী দপ্তর। এই কার্যালয়ে অগ্রিম ঘুষের অর্থ দিয়েই তিতাসের অবৈধ সংযোগ নেয় অপরাধীরা । এতোদিন এতো ঘটনা ঘটেছে কোন মামলা হয় নাই । এখন এই মামলা করে এখন সাধু সাজার চেষ্টা করতেছে পুরো চক্র। অপরাধী এই চক্রের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলেই সকল চুরি বন্ধ করা সম্ভব।
দীর্ঘদিন তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নারায়ণগঞ্জের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী ও ওমেদারদের লুটপাট করে নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করে দেশবাসীকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে আসছে।ঠিক তেমনি এই মামলা করে নতুন বাণিজ্যের পথ তৈরি করেছে অসাধু চক্র। রাস্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হলে প্রথমে শর্ষের ভিতরের ভুত তাড়াতে হবে এবং এই অপরাধীদের নাটক মঞ্চায়ন বন্দ করা জরুরী বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।









Discussion about this post