আওয়ামীলীগের শাসনামলের পুরো সময় জুড়ে যুগান্তরের সাবেক নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ ছিলো না। সহকর্মীদের কাউকে ধমক আবার কারো কারো মাঝে শামীম ওসমান অথবা ওসমান পরিবারের কাছ থেকে উচ্ছিষ্ট নিয়ে বিলি করে তুষ্ট করতেন।
সেই রাজু আহমেদ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান, তার শ্যালক অপরাধের মাস্টারমাইন্ড তানভীর আহমেদ টিটু, বিয়াই লাভলুসহ অনেকেই অস্ত্র হাতে গুলিবর্ষন করে তোলপাড়ের ঝড় তোলে।
দু্টি অস্ত্র হাতে সেই শামীম ওসমানের মহড়ায় এ্যাকশন দেখানোর কারণে বিশেষ পেশার নামধারী কয়েকজন রাজু আহমেদের মতো নানা অপরাধ করলেও পুরো দায় যেন এই রাজু আহমেদের উপর বর্তায়। টার্গেটে পরিণত হয় রাজু।
শেখ হাসিনার পলায়নের সাথে সাথেই কর্পূরের মতো উবে যায় শামীম ওসমানসহ তার চেলা চামচাসহ অনেকেই। আবার সেই শামীম ওসমানের কাছ থেকে অনেক সুবিধা আদায়কারী উচ্ছিষ্টভোগী চিহ্নিত কয়েকজন বিষাক্ত শাপের ন্যায় ছলম পাল্টানোর মতো চরিত্র বদল করে নতুন নেতা হিসেবে নিজেদের আবির্ভাব ঘটনোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । আর রাজু আহমেদ একাই যেন অপরাধ করেছে আর সকলেই যেন সাধু ।
এমন সাধুদের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে রাজু আহমেদের কুকর্মের মতোই ।
সেই রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
গতকাল রোববার (২৪ নভেম্বর) বিএফআইইউ এর পক্ষে ব্যাংকগুলোতে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, হিসাব জব্দ করা ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজু আহমেদ ছাড়াও আরও ১০ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়। আরও যাদের হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন : দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চৌধুরী জাফরুল্লাহ শারাফত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, টিভি টুডের প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, ওয়াশিংটনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর নাজনীন মুন্নি, ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ ঘোষ সৈকত, গাজী টিভির এডিটর (রিসার্চ) অঞ্জন রায়, সময় টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ কমল দে, দৈনিক আমার সময়ের প্রধান সম্পাদক আব্দুল গাফফার খান।
রাজু আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়ার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের একই প্রশ্ন রাজু আহমেদের ব্যাংকে কত কোটি টাকা রয়েছে যে তার ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করতে হবে ? শামীম ওসমানের পক্ষে যা খুশি তা করতো রাজু কিন্তু রাজুর মতো কি আর কেউ নাই ? বিশেষ পেশার কত জন আছে যারা শামীম ওসমানের চামচামীতে ব্যস্ত থাকতেন পুরো আওয়ামী লীগ আমলে ? রাজু আহমেদ প্রকাশ্যেই শামীম ওসমান কিংবা ওসমান পরিবারের পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে আবার পালিয়েও গেছে কর্পূরের মতো। আর যারা শামীম ওসমানের চামচামী করে বিগত সময়ে সুবিধা নিয়েছে আবার শাপের মতো ছলম পাল্টায়ে এখন নতুন গডফাদারের পদলেহন করছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করবে কে ?









Discussion about this post