দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী পিয়ন ও দালালদের কারণে পরিবেশ ধ্বংশকারীদের সাথে আঁতাত করে বিশ্বে পরিবেশ দূষণের শীর্ষে অবস্থান পায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ। এমন শীর্ষে অবস্থানের বিষয়ে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে উপস্থিত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “শীতলক্ষ্যার পাড়ে যে দূষণ হচ্ছে, এটা আমারও কনসার্ন । মাছ হচ্ছে না, গন্ধ বের হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা থেকে মানুষ নাকে কাপড় দিয়ে বের হয়, এটা তো হতে পারে না। পরিবেশের জন্য সাংঘাতিক দুষ্কর ব্যাপার। এখানে বর্জ্যে পানি নষ্ট হচ্ছে, সে পানিতে মাছও হচ্ছে না, গাছও হচ্ছে না। সব পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। সম্মিলিতভাবে দূষণমুক্ত কাজ করা হবে।”
উপদেষ্টার এমন মন্তব্যের এক দিনের মধ্যে আবারো পরিবেশ দূষনে শীর্ষ অবস্থানের ঘোষনা আসে আজ বুধবার ৪ ডিসেম্বর।
এমন পরিবেশের মারাত্মক অবনতির কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রতি মাসের মতো এবারো বন্দর উপজেলা বায়ু দূষণ বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অভিযান নামক নাটক মঞ্চায়ন করে চালিয়ে ৫ টি ইঁটভাটিকে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এমন জরিমানার ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অনেকেই বলেছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী পিয়ন ও দালালরা প্রতিমাসে মাসোয়ারা নেয় নানা কৌশলে। এদের হাতে নাতে আটক করা খুবই কঠিন। আর এই অবৈধ লেনদেনের কারনে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধোকা দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্র শত শত ইট ভাটা, পলিথিন কারখানা, শত শত ডাইং কারখানাসহ নানা মিল ফ্যাক্টরী পরিবেশ ধ্বংস করতে নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করেই যাচ্ছে। আর এই নাটকে কিছু বিশেষ পেশার লোকজনকেও মাসোয়ারা দিয়ে লালন পালন করে যাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী ।যাদের কাজ হচ্ছে অসাধু চক্রের গুণকীর্তন করা।
জানা যায়, আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহাত উজ জামানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা সমম্বয়ে গঠিত একটি টিম এ অভিযান চালায়। এ সময় ইটভাঁটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স আল মদিনা ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স নারায়ণগঞ্জ ব্রিকসকে ৩০ হাজার টাকা, মেসার্স থ্রি স্টার ব্রিকসকে ৭৫ হাজার টাকা ও মেসার্স হাজী অটো ব্রিকসকে ১ লাখ টাকাসহ ৫টি ইটভাটাকে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাঁটি স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী উক্ত ৫টি ইটভাঁটি থেকে তিন লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়েছে এবং কার্যক্রম সম্পূণরূপে বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে অবৈধ ইটভাঁটি ও বায়ুদূষণকারী কারখানা/প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমন ঘটনায়িআজ বুধবার রাত নয়টায় বন্দর উপজেলার একজন ইটভাটার মালিক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন,“পরিবেশ অধিদপ্তরের এই অভিযানের আগেই সকাল ১১ টায় ইট ভাটা মালিক সমিতির নেতাদের কাছে ফোন করে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বলা হয় মোবাইল কোর্ট আজ অভিযান চালাবে । সামান্য জরিমানাও হবে । কোন ধরণের যেন বিশৃংখলা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এমন মোবাইল কোর্ট আসার আগে খবর দেয়ার অর্থ কি ?”









Discussion about this post