“ক্ষমতার চেয়ার কত যে নোংড়া তা আবার পরিচয় দিয়েছেন বিকেএমইএ’র স্বঘোষিত বিতর্কিত সভাপতি হাতেম। অসংখ্য অভিযোগের পরও বিকেএমইএ’র সভাপতির চেয়ার আকড়ে ধরে আছেন কোন লাজ লজ্জার হিসেব না করেই । শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের অসংখ্য সুবিধাভোগী অপরাধী চক্র যেমন মনে করেছিলো দেশ তাদের বাপ দাদার । পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছেন, যা খুশি তা করবেন ঠিক তেমনি মোহাম্মদ হাতেম মনে করছেন ওই চেয়ার তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত। ওই চেয়ারের একমাত্র অধিকারী হাতেম নিজেই ! দীর্ঘদিন হাজারো অভিযোগর পরও সেলিম ওসমান এই চেয়ার আকড়ে ধরে রাখার পর ৫ আগষ্টে পালিয়ে গিয়ে ওয়ারিশ সূত্রে হাতেম সভাপতির চেয়ারটি হস্তান্তর করেছেন । আর এই চেয়ার পেয়ে ধন্য ধন্য হয়ে জুট সন্ত্রাসী নামক কর্মকান্ড লিপ্ত হয়ে উঠেছেন বিরামহীনভাবে। আর এর জন্য তিনি (হাতেম) নিজ সন্তান ছাড়াও একটি পেটোয়া বাহিনীও গড়ে তুৃলেছেন।”
এভাবেই আজ শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে কয়েকজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে আলোচনায় এমন কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন । ওই সমালোচনার ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড এসেছে প্রতিবেদকের কাছে।
ওই আলোচনা সমালোচনায় উঠে আসে কয়েকটি গণমাধ্যেমে ধারাবাহিক প্রকাশিত বিকেএমইএ’র স্বঘোষিত বিতর্কিত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বিষয়ে সংবাদ প্রসঙ্গটিও ।
যেখানে হাতেমের ঝুট ব্যবসা ও ‘হাতেম স্বৈরশাসকের সুবিধাভোগী’ শীর্ষক সংবাদের বিষয়টি ।
যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও সাধারণ সদস্যরা সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং তার পূর্বসূরি সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এই অভিযোগে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে মোহাম্মদ হাতেমকে ‘স্বৈরশাসকের সুবিধাভোগী’ উল্লেখ করে বর্তমান পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি গত ১৪ বছর যারা সংগঠনটির নেতৃত্ব ছিলেন তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা অনুসন্ধান করতে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন । বৈষম্যের শিকার বিকেএমইএ’র সাধারণ সদস্যদের পক্ষে চিঠি দিয়েছেন প্রীতম নিটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর আহমেদ এবং কেএএস নিটওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর কবির ।”
অপরদিকে ভিন্ন একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত চতুর্মুখী চাপে ঝুট ব্যবসায়ী হাতেম শীর্ষকসংবাদ নিয়েও সমারোচনার ঝড় উঠে ।
যেখানে, ওসমানদের দোসর হিসেবে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সেলিম ওসমানের পদত্যাগপত্রের প্রেসক্রিপশনে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি পদ দখল করেন ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাতেম। ওসমানদের ছত্রছায়ায় মোহাম্মদ হাতেম বিসিক এলাকার বহু ব্যবসায়ীকে ব্যবসা ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। একদিকে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, আরেকদিকে জমি ব্যবসায় রমরমা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে হাতেম। ওসমান পরিবারের প্রত্যক্ষ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন হাতেম। একদিকে সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান এবং অয়ন ওসমানের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীকে ঝুট বিতরণ করতেন, অপরদিকে আজমেরী ওসমানের সাথে সখ্যতা রেখে তার ক্যাডারবাহিনীর মাধ্যমেও ফ্যাক্টরির ঝুট নিয়ন্ত্রণ করতেন।
তবে শুধু ঝুট নয়, বিসিক এলাকায় বিচার- শালিশের নামে ব্যবসায়ীদের উপর নানা অত্যাচারের কথা এখন সেখানকার মানুষের মুখে মুখে। শুধু তাই নয়, হাতেমের কথার নড়চড় হলেই ব্যবসায়ীদের উপর অত্যাচারের খড়া নেমে আসতো। বিসিক, কাশিপুর, এনায়েতনগর এলাকায় বিশাল ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট গড়ে তোলে ওসমানরা। এর প্রধান নিয়ন্ত্রক ও ছিলো এই ঝুট ব্যবসায়ী হাতেম।
এদিকে ২০১০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বিকেএমইএর সভাপতির পদে ছিলেন সেলিম ওসমান। ২০১২ সালে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি হন তিনি। তারপর ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে সমঝোতার মাধ্যমে পর্ষদ করে সভাপতি হন সেলিম ওসমান।
৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর গত ২৫ আগষ্ট বিকেএমইএ’র সভাপতি হন মোহাম্মদ হাতেম।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সেলিম ওসমান বিকেএমইএ’র সভাপতি থাকলেও তার পক্ষে বিকেএমইএ’র নিয়ন্ত্রণ ছিলো মোহাম্মদ হাতেমের হাতে। শেষে তাকে নির্বাহী সভাপতি নামের একটি পদ-ও দেয়া হয় যেটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নিয়মের মধ্যে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ওসমানরা ও তাদের দোসররা পালিয়ে গেলেও বিকেএমইএ’র সভাপতি পদে মোহাম্মদ হাতেমের অবস্থান নিয়ে ব্যবসায়ীরা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহলে ব্যপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ তাকে অপসারনের দাবী জানিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা, ও সচিব বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন বৈষম্যর শিকার বিকেএমইএ এর সাধারণ ব্যবসায়ীরা।









Discussion about this post