আওয়ামী লীগের শাসনামলের সুবিধাভোগী প্রায় সকলেই মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে গেলেও ওসমান পরিবারের অন্যতম সহযোগী লিয়াকত হোসেন খোকা বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হয়েও রয়েছেন বীরের বেশে।
৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জে বর্তমান ও সাবেক এমপিদের খোঁজ না মিললেও প্রকাশ্যে মিছিল করার সাহস দেখিয়েছেন খোকা।
সম্প্রতি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে দেখা গেছে একাধিক হত্যা মামলার আসামি লিয়াকত হোসেন খোকাকে।
নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিছিল বের করে জাতীয় পার্টি।
ওই মিছিলের সামনের সাড়িতে দেখা গেছে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে। ৫ আগস্টের পর থেকে নারায়ণগঞ্জসহ কোথাও দেখা যায়নি খোকাকে। অনেকেই অনুধাবন করে বলেছেন, লিয়াকত হোসেন খোকা ঢাকাতেই অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে। যার কারণেই ঢাকার কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে আসা সম্ভব হয়েছে।
‘লিয়াকত হোসেন খোকা জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলের একদম সামনের সাড়িতেই ছিলেন। বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা যাচ্ছিলো তাকে। বেশ কিছুক্ষণ ক্যামেরার সামনে থাকার পর হঠাৎ করেই তিনি পেছনে চলে যান। এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন তিনি যে হত্যা মামলার আসামি এবং তার মিছিলের উপস্থিতি রেকর্ড করা হচ্ছে। সেই কারণেই নিজেকে আড়াল করতে সরে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আরো বলেন, আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের নির্বাচনে ২০১৪ সালে সোনারগাঁও থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন লাভ করে লিয়াকত হোসেন খোকা। মূলত নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত স্বশিক্ষিত লিয়াকত হোসেন খোকা। ওসমান পরিবারের প্রতি বিশ্বস্থতার কারণেই তাকে সোনারগাঁ আসনে বসাতে সুপারিশ করে শামীম ওসমান। যার কারণে সহজেই এমপি হয়ে যান এই খোকা। তারপরে খোকা পুরো সোনারগাঁ নেন নিজ কব্জায়। তার উপর ভর করে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে ছড়ি ঘোরাতে পেরেছে শামীম ওসমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা। আর ওই কারণেই শহর, বন্দর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জের পরে সোনারগাঁও কব্জায় নিয়ে নেয় ওসমান পরিবার।
পরবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে কায়সার হাসনাত নিবৃত্ত করে খোকা ও ওসমান বাহিনী দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য হন খোকা। তবে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা এমপি ছিলেন খোকা।
ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে খোকা ও তার অনুসারীদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আন্দোলনকারীদের। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, খোকার নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্র জনতার উপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। একাধিক মামলার আসামি হবার পরেও খোকাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
আওয়ামী লীগ পতনের পর শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু পরিবারসহ পালিয়ে গেলেও মিছিল নিয়ে এখনো রাজপথে রয়েছে ওসমান পরিবারের অন্যতম সহযোগী লিয়াকত হোসেন খোকা।









Discussion about this post