ভোর তিনটায় মূলতঃ খেজুরের রস খাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে ফরিদপুর রওয়ানা দেন প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কালু ভূইয়ার পরিবার। সময় সুযোগ পেলেই পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে দেশের বিভিন্ন ঘুরতে যান, আনন্দও করেন পরিবারের সকলকে সাথে নিয়েই। পরিবারের সব সদস্যরা মিলে নতুন কোনো জায়গায় ঘুরে ঘুরে উৎসব ও করেন তারা। এবারও তারা ঘুরতে বের হয়েছিলেন খেজুরের রস খেয়ে কোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াবেন। আর এর আগেই নেমে এলো বিষাদ।
ভোর তিনটায় গাড়ি নিয়ে বের হয়ে সকালের আলো ফুটে উঠার আগেই ফরিদপুর পৌঁছে আনন্দের সাথে টাটকা রস খেলেও পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবে ফেরা হয়নি।
নিমিশেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তারা। আরও কয়েকজনের আসার কথা ছিল। তাদের দেরি হওয়ায় ফরিদপুর শহরের গেরদা থেকে মুন্সিবাজারের দিকে ঘুরতে যাচ্ছিল তারা। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে গেরদা এলাকার রেলগেটে উঠতেই তাদের মাইক্রোবাসে ধাক্কা দেয় ট্রেন। এতে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তাঁর বাবাসহ তিনজন। আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়ার পর আরও দু’জনের মৃত্যু হয়।
এমন ঘটনায় হাসিখুশি পরিবারের ৫ সদস্যই লাশে পরিনত হলো মুহুর্তের মধ্যে। আর কয়েকজন জীবিত ফিরলেও তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নারায়ণগঞ্জ নগরীর ভূইয়াপাড়ার কালু ভূইয়ার বাড়িটিতে সব সময়ের মতো সকালে ছিল উৎসবের আমেজ, দুপুরেই সেই বাড়িটিতে মুহুর্তের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া । আর আশেপাশের সকল এলাকাও যেন শোকের ছাড়া নেমে আসে। শোকাহতরা মরদেহ দেখে চোখের পানি মুছতে মুছতে ফিরে যেতে দেখেও পাষানের বুকও যেন কেঁদে উঠেছে । সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোন ভাষাও কারো মুখে দেখা যায় নাই। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ যেন শোকে পাথর হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ৭ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ থেকে ফরিদপুরে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের ৫ জন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক শিশুসহ আর দুইজন। দুপুর ১২টায় ফরিদপুর সদরের গেরদা এলাকার রাজবাড়ী-ভাঙ্গা রেলক্রসিংয়ে তাদের মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন।

দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন : শহরের ভূইয়াপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদের স্ত্রী আতিফা রহমান ভূঁইয়া, ছোট বোন ফাহমিদা শারমিন মুন, মুনের স্বামী ব্যবসায়ী মামুন চৌধুরী লিটন, চাচাতো বোন সাজিয়া আফরিন সাজু ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী উম্মে মাহমুদা রিংকু।
আর এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সাঈদের ভাগ্নি শিশু তাজরিনকে রাজধানীর আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর মাইক্রোবাসচালক জিন্নাহও ফরিদপুরের হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতদের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূঁইয়াপাড়ায় এসে পৌঁছালে পুরো বাড়ি ও নগরীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজন ছা্ড়াও নগরীর হাজার হাজার রোক ছুটে আসেন মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোক জানাতে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারী) রাতেই পাইকপাড়া, মাসদাইর ও বন্দর কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহতদের ।
নিহতদের আত্মীয় ফিরোজ আহমেদ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আবু সাঈদের একটি প্রাইভেটকার আর তার ভগ্নিপতি মামুন চৌধুরী লিটন তাদের ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস নিয়ে তারা মঙ্গলবার ভোর তিনটায় ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তারা আবু সাঈদের শ্বশুরবাড়িতে সাক্ষাৎ শেষে নারায়ণগঞ্জে আসার পথেই এই ঘটনায় যেন নিমিশেই সব শেষ করে দিলো ।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা ও পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন ।
কামরুল হাসান মোল্লা এমন দূর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, জানতে পেরেছি, নিহত সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের জন্য লাশ বাড়িতে নেওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করেছি। নিহতদের পরিবারের মতো আমরাও এই মর্মান্তিকেএই দূর্ঘটনায় শোকাহত।









Discussion about this post