র্যাব পরিচয়ে কুমিল্লার দুই দুবাই প্রবাসীকে মামলার ভয় দেখিয়ে অস্ত্রের মুখে বাস থেকে নামিয়ে নগদ ২১ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও মোবাইলসহ মালামাল লুটে নেওয়ার ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পোষাকে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন : পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার মাধবখালি গ্রামের মোমেন উদ্দিনের পুত্র শহিদুল ইসলাম মাঝি (৫২), আব্দুল হামিদ হাওলাদারের পুত্র নেসার উদ্দিন বাচ্চু (৫২), এবং শাহানাজ মুন্সির পুত্র বাবুল (৪০)। র্যাব পরিচয়ে এমন ডাকাতির ঘটনার সাথে যুক্ত গ্রেফতারকৃতরা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সস্তাপুর শিবু মাকেট এলাকায় নানা পরিচয়ে বসবাস করে এবং পুলিশ, র্যাব, ডিবিসহ নানান পরিচয়ে লোমহর্ষক অপরাধ কর্মকান্ড চালায়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) দুপুরে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে উল্লেখিত আসামীদের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. কাউয়ুম খান রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামছুর রহমানের আদালতে শুনানীর পর রিমান্ড ম,ঞ্জুর করা হয়।
এমন ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতার করায় আদালত প্রাঙ্গণে অনেকে পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “পুলিশ অবশ্যই এই ঘটনায় ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রকৃত অপরাধীদেরও আটক করার দাবী করের কেউ কেউ।”
১৪ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দর থানার কেওঢালা এলাকায় বাস থেকে র্যাব পরিচয়ে কুমিল্লার দুইজন দুবাই প্রবাসীকে মামলার ভয় দেখিয়ে অস্ত্রের মুখে বাস থেকে নামিয়ে নগদ ২১ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও মোবাইলসহ মালামাল লুট করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়াকে র্যাব পরিচয়ে বাস থেকে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় গ্রেফতারকৃত আসামীরা। প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়াকে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ ২১ লাখ টাকা, পাসপোর্ট, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে ঢাকার ডেমরার আমুলিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়।
প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়া ১৪ জানুয়ারি ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা কিছু ডলার বিক্রি করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে বাসে রওনা দেয়ার পর বন্দর থানার কেওঢালা এলাকায় তাদের বাস থামিয়ে দুর্বৃত্তরা র্যাবের পোশাকে হ্যান্ডকাফ ও পিস্তল হাতে তাদের নামে মামলা আছে বলে বাস থেকে টেনে নামানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে আবু হানিফ জানান, দুর্বৃত্তরা বাসের যাত্রীদের বাধা অগ্রাহ্য করে জোরপূর্বক তাদের মাইক্রোবাসে তোলে। তাদের চোখ, হাত ও পা বেঁধে মারধর করে এবং পায়ে গুলি করার হুমকি দেয়।
ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
বন্দর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।









Discussion about this post