নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের নারায়ণগঞ্জে সরকারি ইউনানী ওষুধসহ বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অভিযানের সময় হাসপাতালের ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ, দরপত্র, কোটেশন, কার্যাদেশ, ওষুধ গ্রহণের চালান, ওষুধ স্টক রেজিস্টার এবং বিতরণ রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের রেকর্ডপত্র, ক্রয় সংক্রান্ত রেজিস্টার এবং রোগীদের কাছে ওষুধ বিতরণের শর্ট স্লিপও যাচাই করা হয়।
এনফোর্সমেন্ট অভিযান চলাকালে দুদকের কর্মকর্তারা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। দুদকের এই অভিযানে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানায়।
হাসপাতালের সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘদিন ধরেই ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি এবং পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, ইউনানী ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী নিয়মিত পাওয়া যায় না।
ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকার। যিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ইউনানী বিভাগের মেডিকেল অফিসার। ২০ বছর যাবৎ তিনি এই হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইউনানী খাতে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে একটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিষয়টির প্রাথমিক তদন্তে নেমেছে দুদক।
দুদকের এমন অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুদকের টিম হাসপাতালে এসেছিল দু’টি কাজে। একটি তাদের দাপ্তরিক কাজ এবং অপরটি একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্তের জন্য। এ বিষয়ে হাসপাতাল থেকে তারা যেসব তথ্য চেয়েছেন তা তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।’
দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ পরিচালক নিয়ামুল আহসান কাজী এ বিষয়ে বলেন, ‘কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গোপনে এ বিষয়ে তদন্ত করছে দুদক। হাসপাতালের ইউনানী খাতে কিছু কেনাকাটা ও অন্যান্য কিছু বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে ইউনানী খাতে বরাদ্দ ও কেনাকাটার ভাউচার আমরা চেয়েছি। এগুলো দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
তবে এমন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত চিকিৎসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নাই।









Discussion about this post