হাসিনা সরকারের খাদ্যমন্ত্রী কামরুলের পোকা গম কেলেংকারীর গোপন তথ্য ফাঁস করে তোলপাড় তুলেছিলেন সচিব মাহবুব কবির মিলন। কি করে সেই ২০১৫ সালে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা হয়েছিলো দুই লাখ টন গম । সেই পঁচা গম নিয়ে বিপদে পড়েছিলো খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দূর্ণীতিবাজচক্র ।
পুলিশসহ ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি অভিযোগের পর সেই গম দেশের মানুষকে খাওয়ানো হয়েছিলো নানা কৌশলে। সেই খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম তৎকালীন সময়ে দাপটের সাথে সেই গম কেলেংকারী ধামাচাপা দিলেও সেই গম কেলেংকারী নিয়ে এখনো রয়েছে নানা গুঞ্জন ।
তৎসময়ে ব্রাজিল থেকে ৪০০ কোটি টাকা দামের দুই লাখ টন গম আমদানির কার্যাদেশ পায় ইমপেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও ওলাম ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ইমপেক্স দেড় লাখ ও ওলাম ইন্টারন্যাশনাল পায় ৫০ হাজার টন।
২০১৫ সালে খাদ্যমন্ত্রী কামরুলের কঠোর আদেশে তৎসময়ের সচিব মাহবুব কবির মিলনকে নানাভাবে এবং প্রকাশ্যে হুমকি ধমকি দিয়ে পঁচা গমের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সেই কামরুল চক্র । এরপর বিশাল এই পঁচা বিষয়টিকে সরসরি হস্তক্ষেপ করে খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিনির্ধারকদের সিন্ডিকেট।
পিয়ন থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত এই সিন্ডিকেটে জড়িত থেকে সরাসরি পঁচা গমের পক্ষে অবস্থান নিলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গম ছাড় করে গম উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করতে সিন্ডিকেট গঠিত হয় কামরুলের নির্দেশে। তা ছাড়া এসব গমের আটা ওএমএস কর্মসূচিতে বিক্রি করা হয়। ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানির পর তা পুলিশের কাছে গেলে বিপত্তি সৃষ্টি হয়। পঁচা গমের আটা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেওয়া হলে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এই ঘটনায় নড়েচড়ে উঠে গোয়েন্দা সংস্থা। এরপর ধামাচাপা পরে যায় সেই গম কেলেংকারী । এরপর গত ১০ বছর কোন সমালোচনা ছাড়াই এই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অসাধু চক্র তৎপর থাকলেও তাদের টিকিটি কেউ আর স্পর্শ করতে পারে নাই।
সেই চক্রের সকলেই এখনো রয়েছে তৎপর।
এমন গম কেলেংকারীর অবিরাম ধারাবাহিকতায় এবার গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) আর্জেন্টিনা থেকে ৫২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম আমদানি করেছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা (জনসংযোগ) ইমদাদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের (প্যাকেজ-৩) মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি করা ৫২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ইনডিগো ওমেগা জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
‘নমুনা পরীক্ষা শেষে আজই গম খালাসের কার্যক্রম শুরু হবে,’ বলেন তিনি।
এমন খবরের পর নারায়ণগঞ্জের একজন গম ব্যবসায়ী বলেন, শুধুমাত্র নাারয়ণগঞ্জের কয়েকজন খাদ্য কর্মকর্তার প্রতি নজরদারী করলেই বেড়িয়ে আসবে এই গম কেলেংকারীর লোমহর্ষক তথ্য।









Discussion about this post