কোন ঘটনা ঘটলেই সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অথবা ওসমান পরিবারের নাম জড়িয়ে নানা বিতর্ক- সমালোচনার সৃষ্টি হয় । ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জের সিংহাম খ্যাত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সাথে বসে একজন বিশেষ পেশার নামধারী, একজন কুখ্যাত জুয়ারী পূজার অনষ্ঠান সম্পন্ন করায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে জেলা জুড়ে । আর এই কুখ্যাত লোকজন পুলিশ সুপার যাতে বিতর্ক ও সমালোচনায় সকলের মাঝে পরিচিতি পায় সেই লক্ষ্যে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে গভীর চক্রান্ত চালাচ্ছে কুক্ষাত এই ব্যক্তি । বিশেষ পেশার এই এক ব্যক্তি নানাভাবে ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে চোরাই গমের ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । বিশাল সাংবাদিক হিসেবে শহরে দাপড়িয়ে রেড়ালেও নিজ পেশা ও নিজ ধর্মীয় লোকজনকে নানাভাবে হয়রানী করে জেল খাটানোর অভিযোগ উঠেছে । মূলতঃ কথিত এই নামধারী সাংবাদিক নিজ পেশা ও ধর্মকে ব্যবহার করছে শুধুমাত্র স্বার্থ হাসিল করতেই। এমন মন্তব্য সাংবাদিকসহ অনেকের । অথচ এতো কিছু ঘটনা ঘটলেও শামীম ওসমানসহ তার পরিবার এসব কিছুই জানেন না বলেও জানিয়েছে নিজ দলের নেতাকর্মীরা
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চবটিতে ইউনাইটেড ক্লাবের জুয়া কেলেঙ্কারীর ৪৮ঘন্টা না পেরুতেই জুয়ারী তাপুকে এক মঞ্চে দেখা গেছে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীরে পাশে দেখে বিস্মিত এলাকাবাসী । শুধু বক্তৃতা আর শুভেচ্ছা বিনিময়ই নয়, এক মঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় নাচ-গানও উপভোগ করেছেন পুলিশ সুপার। এসময় পুলিশ সুপারের সাথে আসা পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
শনিবার(৫ অক্টোবর) রাতে পঞ্চবটি হরিহর পাড়া এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসপি হারুন অর রশীদের সাথে একমঞ্চে ছিলেন ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি জুয়াড়ি তোফাজ্জল হোসেন তাপু।
মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে যে ক্লাবে জুয়া আর মদের সন্ধানে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে জুয়ারীদের গ্রেফতার করেছে,সেই ক্লাবের গ্রেফতারকৃত জুয়ারী আর কর্মকর্তাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারের উপস্থিতি হতবাক করেছে স্থানীয় শত শত মানুষকে। এলাকাবাসী বলছেন, দুষ্টের দমন কখনওই সম্ভব নয়, যদি সর্ষের মধ্যেই ভুত থাকে। তারা বলেন অর্থই সকল অনর্থের মূল।
অপরদিকে এই ঘটনার পর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ফতুল্লা থানার ওসি বা কর্তাদের তো বিষয়টি অবশ্যই জানার কথা, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তির ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তাদের তো আমাদের ইনফর্ম করা উচিত ছিল। বিশেষ করে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) মাঠকর্মীরা তো এখানে ছিল, তারাও তো আমাদের এব্যাপারে কিছু বললো না। বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখবো।
স্থানীয় মুরুব্বীরা জানান, ইউনাইটেড ক্লাবের অভিযানের কথা শুনে আমরা পুলিশ সুপারের জন্য দোয়া করেছি। এই ক্লাবের জন্য এলাকার যুবকরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এখানে শুধু জুয়া খেলাই হয় না, মদ বিয়ারের মত মাদক গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। তাপু গ্রেফতারের পর ভেবেছিলাম এসব বন্ধ হবে। এখন তো দেখছি সব আই ওয়াস । কি দরকার ছিলো এই জুয়ার আস্তানায় হানা দেয়া আর কি দরকার ছিলো এই অপরাধীকে পাশে বসিয়ে এক সাথে পুরো অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষন করা । তাপুসহ ৭ জুয়ারী গ্রেফতার ও জতলচোরা দেলু পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সর্বত্র যখন তোলপাড় ঠিক এমন সময় এসপি হারুন কি করে এই জুয়ারীদের সাথে এক মঞ্চে বসা ছিলো এলাকাবাসীর সাথে তামাশার শামিল । জুয়ারীরা ছাড়া পাওয়ার পর পুরো ফতুল্লায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো জুয়ারীরা গ্রেফতারের পর তার ছাড়াতে দরকষাকষি করে ডিবি পুলিশ । তাপুসহ জুয়ারীদের ছাড়তে অথবা অন্য কোন মামলা ছাড়া শুধু মাত্র জুয়া আইনে আদালতে চালান করতে কোটি টাকা ঘুষ দারী করলেও পরবর্তীতে ৭০ লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে চাউর হয় ।
গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝেও এমন থবর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ আর তেমন কাজ করে নাই । এমন রটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিশেষ পেশার নামধারী যিনি শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে শহর দাপড়িয়ে বেড়ায় এবং লবণ ও গম চোরচক্রের হোতাদের সাথে গভীর সখ্যতা রেখে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে তদ্বির চালানোকারী এই ব্যাক্তি পুলিশ সুপারকে নানাভাবে ম্যানেজ করে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যে ফেলেছে ।
এমন ঘটনায় ফতুল্লার অনেক সংবাদকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দালাল হিসেবে পরিচিত বিশেষ পেশার এই লোক ফতুল্লায় সকলের কাছে ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে আতংক সৃষ্টির মাধ্যমে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে । অথচ পর্দার আড়ালে এই ব্যক্তি চোরাই গমের ব্যবসা, চোরাই লবণ সিন্ডেকেটের সাথে যুক্ত থেকে নানাভাবে আংগুল ফুলে কলাগাছ বনে গিয়ে ফতুল্লার সকল সাংবাদিকদের জিম্মি করে ফেলেছে । এর জ্বলন্ত উদহারণ হিসেবে অনেকেই বলেন, ফতুল্লার কোন সাংবাদিকরা জুয়ার নিউজটি করতে পারে নাই কেন ? বিশেষ পেশার এই দালাল একদিকে ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করছে, অপরদিকে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করছে, তৃতীয়তঃ সাংবাদিক পেশাকে কলুষিত করছে, আর চতুর্থতঃ চোরাই কারবারীদের সাথে গোপনে রেখেছেন সখ্যতা । একই অঙ্গে কত রূপ তার ? এমন জিম্মি দশা থেকে মুক্তি চেয়েছে ফতুল্লার সাংবাদিকরা ।









Discussion about this post