নারায়ণগঞ্জের সকল উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি। আর এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের নেপথ্যে একদিকে প্রভাবশাল চক্র আরেক দিকে তিতাসের সাথে যুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারী, ওমেদার ও দালাল। এমন তিতাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে যেমন নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা আবার কোন মতবিরোধ হলেই বিচ্ছিন্ন নামক নাটক মঞ্চায়নের দৃশ্য চলছে অবিরাম পন্থায়।
এমন অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে প্রতিনিয়তঃ একের পর এক অভিযান নামক নাটক মঞ্চায়ন হলেও পরিচালিত হলেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ অথবা গ্যাস চুরির মহোৎসব থামছেই না।
রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, বন্দর উপজেলায় হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ ছাড়াও প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চোরাই গ্যাসের সংযোগ আছেই। আর এই সকল চোরাই সংযোগের নেপথ্যে তিতাসের কর্মকর্তা কর্মচারী, ওমেদার ও দালাল। জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো ই এবার গুরুতর ঘটনা ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জে, যেখানে একটি ১০ তলা ভবনে ৩৬টি ডাবল চুলা অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল ! এমন ভবনের ঘটনা রয়েছেও অনেকে । তিতাসের নাটকীয় অভিযানকালে দুই একটি ভবন বা কল কারখানায় অভিযান চালালেও অন্যান্য অসংখ্য কারখানা কিংবা বাসা বাড়িতে দেখতেও যান না অভিযানকারী কেউ। যেমন সিদ্ধিরগঞ্জে সকল চুনা কারখানা, অসংখ্য কয়েল কারখানা, ডাইংসহ বিভিন্ন কলকারখানায় চলছে চোরাই গ্যাস।
এমন অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনটি পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নেতৃত্বে অভিযান পলিচালিত হয়েছে।
এমন অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বড়বাড়ি এলাকার সোনালী টাওয়ারের ১০ তলা ভবনে ৩৬টি ডাবল চুলার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। এমন অভিযানে তিতাস গ্যাসের চোরাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবনের মালিককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।সিদ্ধিরগঞ্জ ছা্ড়াও নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের ওসমান পরিবারের মালিকানাধীন ‘হোয়াইট হাউজ’ রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন যাবৎ চলমান পুনরায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চালু থাকায় চোরাই সংযোগ করা হয় এবং মালিকপক্ষকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোস্তাক মাসুদ মোহাম্মদ ইমরান, ভিজিলান্স বিভাগের নারায়ণগঞ্জ ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ শাহিদুর রহমান, ফতুল্লা জোনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মশিউর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলো এই অভিযানে। যাদের মধ্যে প্রায় সকলের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাসের দূর্ণীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
এমন ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী এবং খোদ জরিমানা করা একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করে বলেন, প্রতি মাসে তিতাসের লোকজন মূল মালিকের সাথে যোগাযোগ করে চোরাই গ্যাসের জন্য টাকা নিয়ে যায়। এবার বাড়তি কিছু টাকা চাইছিলো। যা নিয়ে মৃদু তর্ক হইছিলো। ওই তর্ক করার ফল হইলো এই বিচ্ছিন্ন নাটক।
নাম প্রকাশ না করার অুনরোধে অভিযান করা এই প্রতিষ্ঠানের একজন মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দূর্ণীতি থামানো যাবে না। আমি বা আমরা স্বচ্ছতার গ্যাস ব্যবহার করতে চাই। কিন্তু এই স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির মূল অন্তরায় তিতাসের অসাধু কর্মচারী, ওমেদার ও দালাল। যারা প্রতিনিয়তঃ নানা পন্থায় চোরাই গ্যাস ব্যবহার না করলে উল্টো নানাভাবে হয়রানী করবেই।









Discussion about this post