সিদ্ধিরগঞ্জের একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দগ্ধ হয়েছেন দুই পরিবারের শিশুসহ আট (৮) জন। দগ্ধদের সকলকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হঠাৎ করে আজ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) ভোররাত ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম ধনকুন্ডা এলাকায় ইব্রাহিম খলিলের টিনসেডের ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে এবং ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে ভর্তি করা হয় সকলকে ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, ‘সেমিপাকা টিনসেডের ঘরের নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন পাইপ নেয়া হয়েছে । সেখান থেকে কোনোভাবে গ্যাস লিকেজ হয় এবং এর থেকে কক্ষের ভেতর গ্যাস চেম্বারের সৃষ্টি হয়৷ যেকো নোভাবে আগুনের স্পার্ক পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।’
দগ্ধরা জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ করেই গ্যাস লাইন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে টিনশেড ঘরে। এ সময় দুটি ঘরে থাকা আট জনই দগ্ধ হন।
রিকশাচালক হান্নান (৪০), তার স্ত্রী নুরজাহান লাকী (৩০), মেয়ে জান্নাত (৩), মেয়ে সামিয়া (৯) ও ছেলে সাব্বির (১৬) এবং আরেক পরিবারের পোশাক শ্রমিক সোহাগ (২৩), তার স্ত্রী রুপালি (২০) ও তাদের একমাত্র দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়া এই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ঘর থেকে বের হয়ে পাশাপাশি দুটি কক্ষে আগুন জ্বলতে দেখেন৷ দগ্ধ অবস্থায় সোহাগ ও রূপালী ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন৷ পরে দরজা ভেঙে বাকি দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দগ্ধ রূপালীর ভগ্নিপতি মোস্তাফিজুর রহমান রনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনার সময় সবাই ছিল ঘুমন্ত অবস্থাতেই। এই ঘর থেকে রান্নাঘরের দূরত্ব আরও ১০ মিটার।
এমন ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেনন, হান্নানের শরীরে ৪৫ শতাংশ, নুরজাহানের ২২ শতাংশ, জান্নাতের ৩ শতাংশ, সামিয়ার ৭ শতাংশ, সাব্বিরের ২৭ শতাংশ, সোহাগের ৪০ শতাংশ, রুপালির ৩৪ শতাংশ ও সুমাইয়ার ৪৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন।
এ বিষয়ে আরো জানান জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটটির পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন । তিনি জানান, আটজনের মধ্যে ছয়জনের শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ছয় জনকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে।









Discussion about this post