আওয়ামীলীগ শাসনামলের পুরো ১৫ বছর নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত ওসমান পরিবারের সকল সদস্যদের অত্যান্ত আস্থাভাজন বন্দরের ব্যাপক সমালোচিত সন্ত্রাসী বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও তার পুত্র মাহমুদুল হক শুভ তাদের বাহিনী নিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের সাথে সাথেই পল্টি দিয়ে নতুন গডফাদারের সন্ধানে মাঠে নামলেও শেষ রক্ষা হলো না তাদের।
আগষ্টে আওয়ামীলীগের পতনের পর নতুন বাবা হিসেবে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের পরিবারকে ম্যানেজ করে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ চালায় মাকসুদ হোসেন ও তার পুত্র মাহমুদুল হক শুভ ।
একই সাথে বিএনপির মহানগরীর একজন নেতাকে ম্যানেজ করে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টাও চালায় গত ৬ মাস যাবৎ।
গিয়াস পুত্র রিফাত কায়সারের পাশে ছবি তুলে তা ফেসবুকে ভাইরাল করে নিজেদের অবস্থান জানান দেয় কু্খ্যাত অপরাধী মাহমুদুল হক শুভ ও তার বাহিনী ।
আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই ১০ আগষ্ট শনিবার সেই সন্ত্রাসী মাহমুদুল হক শুভ বন্দরের একটি অনুষ্ঠানে সেই গিয়াসপুত্র রিফাতের পাশেই বসে সমাবেশ করে ওসমান পরিবারের দোষরের তকমা মুছে ফেলার চেষ্টাও করে।
এতো অপচেস্টার পর এবার বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি এবং ওসমান পরিবারের অন্যতম দালাল মাকসুদ হোসেনকে ফতুল্লা থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করলে শুনানির তারিখ বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে বন্দরের বাড়ি থেকে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে এই কুখ্যাত অপরাধীকে ।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, “বন্দরের মাকসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। তিনি এ মামলার ৮১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামী।”
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান বলেন, “একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় মাকসুদ হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছিলো। তবে দেরিতে আসায় শুনানির তারিখ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়েছে।”
আওয়ামীলীগের শাসনামলে ওসমান পরিবারের সকল সদস্যদের চাটুকারখ্যাত মাকসুদ হোসেন গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওসমান পরিবারের সাথে লোক দেখানো নাটকীয় চ্যালেঞ্জ করে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করতে নানা ছক তৈরী করে। শেষ পর্যন্ত ওই নাটকীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশীদকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ। এমএ রশীদকে পরাজয়ের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন ওসমান পরিবার ও মাকসুদ। প্রকাশ্যে ওই নির্বাচনে মাকসুদের উপর ব্যাপক ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ধূর্ত ব্যবসায়ী সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। আর প্রশাসনিক অর্থাৎ জেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন সেই ওসমান পরিবার। এমন নাটকীয়তার পরও আওয়ামীলীগের পতনের পর এবার নতুন করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে আদালত ও রাজনৈতিক মাঠ দখলের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে গ্রেফতারকৃত এই মাকসুদ ও তার বাহিনী।









Discussion about this post