আজ শুক্রবার মা নাগিনা জোহার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। যিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের মা । যাকে ভাষা সৈনিক ও রত্নগর্ভা মা হিসেবে দালালচক্র নানাভাবে তেলবাজি করলেও সেই নাগিনা জোহার নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে করো নেই কোন সাড়াশব্দ।
তেলবাজ নেতাকর্মী ছাড়াও দালালখ্যাত বিশেষ পেশার অনেকেই এই নাগিনা জোহার মৃত্যুবার্ষিকীতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতো অথবা ক্রোড়প্ত্রও ছাপাতো সেই বিশেষ নামধারী দালালচক্র আজ শুক্রবার রমজান মাসের প্রথম জুম্মা উপলক্ষ্যেও কেউ নাগিনা জোহার মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘরের মধ্যে চুপিসারেও কোরআনখানী, মিলাদ অথবা দোয়ার আয়োজন করার কোন খবর পাওয়া যায় নাই।
২০১৬ সালের ৭ মার্চ তিনি মারা যান নাগিনা জোহা।
এর আগের দিন অর্থাৎ ৬ মার্চ বিকেলে একটি অনলাইন প্রচার মাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলো “নাগিনা জোহা আর নেই।”
এই সংবাদটি প্রকাশের কয়েক ঘন্টার পর সেই সংবাদটি মুছে ফেলে অনলাইন প্রচার মাধ্যমে। এমন শোকাবহ খবর কেন আরাব মুছে ফেলা হলো এমন খবরে খোজ নিয়ে জানা গেলো নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর বিতর্কিত সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সেক্রেটারি ( যিনি নিজেকে নারায়ণগঞ্জ ৬ (!) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রচার করতেন ) খালেদ হায়দার খান কাজলের কঠোর নির্দেশে নাগিনা জোহার মৃত্যুর সংবাদ টি মুছে ফেলা হয়।
কেন মুছে ফেলা হয় এমন শোকাবহ সংবাদ ? এমন প্রশ্নে ওসমান পরিবারের অত্যান্ত ঘনিষ্ট কয়েকজন স্বজনরা বলেন, “মা নাগিনা জোহার মৃত্যু নিয়েও কঠিন রাজনীতি করেছিলো শামীম ওসমান সেলিম ওসমান। অর্থাৎ নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান, শামীম ওসমানের মা নাগিনা জোহা যে ৬ মার্চ মারা যান ৬ মার্চ বিকেলে। সেই ইতিহাস তারা মুছে ফেলতেই ৬ মার্চের পরিবর্তে ৭ মার্চ ঘোষনা করে মৃত্যুর দিন।
কারণ, ত্বকি হত্যাকান্ডও ঘটেছিলো এই ৬ মার্চ । যা ব্যাপক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড নারায়ণগঞ্জের জন্য । সেই হত্যাকান্ডের জন্য নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বিসহ দেশবাসী মনে করেন ভয়ংকর অপরাধী শামীম ওসমান, তার পুত্র আজমেরী ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান মিলেই ত্বকির বাবার প্রতি প্রতিহিংসার কারণে ত্বকিকে নির্মমভাবে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে শীতলক্ষা নদীত লাশ ফেলে দেয়। সেই চাঞ্চল্যকর ৬ মার্চ কে কোন অবস্থাতেই নাগিনা জোহার মৃত্যুর তারিখ করা যাবে না। একই সাথে ৭ মার্চ এতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন বেছে নেয়া হয় নাগিনা জোহার মৃত্যুর দিন হিসেবে। অর্থাৎ দুরভিসন্ধিমূলক চিন্তা করে ভবিষ্যতে নাগিনা জোহার “৬ মার্চ” আর ত্বকির মৃত্যুবার্ষিকী এক সাথে পালিত হবে আর নগরবাসী নানাভাবে সমালোচনা করবে তা যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই পাল্টানো হয় নাগিনা জোহার মৃত্যূর দিন।’
আজ সেই ৭ মার্চ মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোথাও কোন দোয়ার আয়োজন করা হয় নাই।
জানা যায়, নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার অর্থাৎ ভারতের বর্ধমান জেলার কাশেমনগরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই গ্রামটির নাম কাশেমনগর রাখা হয়। তার বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজহিতৈষী ও কাশেমনগরের জমিদার। শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিশেষ সুনাম ছিল। নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলিম লীগের সেক্রেটারি ও এমএলএ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্যসভার স্পিকার ছিলেন। ১৯৫১ সালে একেএম সামসুজ্জোহার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন।









Discussion about this post