‘রাষ্ট্র-ক্ষমতার মোহ শেখ হাসিনাকে উন্মাদ করে ফেলেছিলো। শেখ হাসিনা ত্বকীসহ দেশে বহু হত্যার বিচার বন্ধ করে রেখেছিলেন। গুম, খুন, আয়নাঘর প্রতিষ্ঠা করে বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ভয়াবহ রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। । কিন্তু হাজারো ছাত্র-তরুণদের হত্যা করেও তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি । তিনি পুরোপুরি নির্ভর করেছিলেন পুলিশ ও মাফিয়াগোষ্ঠীর উপর। জনগণ ছিল উপেক্ষিত। নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারকে দিয়ে মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে রেখেছিলেন শেখ হাসিনা। সে পরিবার আজ তার মতোই পালিয়ে গেছে ।’
আজ শনিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১২ বছর উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে ত্বকীর বাবা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেক হাসিনা ও ওসমান পরিবারের বিষয়ে উল্লেখিত মন্তব্য করেন।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘ওবায়েদুল কাদেরকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে ‘নাসিম ওসমান সেতু’, ‘শামসুজ্জোহা সড়ক’ ও ‘নাগিনা জোহা সড়ক’ নামকরণ করা হয়েছে। যা তাদের নিজ দলীয় নেতারা বলেছেন । সে সময় আমি প্রশ্ন করেছিলাম, আমরা জানতে চাই নারায়ণগঞ্জে এই মানুষগুলোর অবদান কী ? কেন একই সাথে তিনটি রাস্তা ও সেতুর নাম একই পরিবারের নামে করা হলো। তারা তখন আমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়েছিল। আমরা আজকে সরকারের কাছে এই খুনী পরিবারের নামে থাকা সেতু ও সড়কের নাম পরিবর্তন দাবি করছি।’
রফিউর রাব্বি অভিযোগ করে বলেন, ওসমান পরিবারের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে ফকির গ্রুপ। তারা ‘ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করে ভুয়া সাইনবোর্ড লাগিয়ে ওসমানদের সম্পত্তি রক্ষার কৌশল নিয়েছে । ফকির গ্রুপ, নীট কনসার্ন এরা ওসমান পরিবারের লুটপাটের নৈতিক সহায়ক ছিলো। ওসমান পরিবারের সম্পত্তি নারায়ণগঞ্জের মানুষের রক্তের বিনিময়ে গড়া। তাই তাদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, যা মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও দলীয় উচ্চপর্যায়ে বণ্টন করেছে।
সংগঠনের সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন: খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রথীন চক্রবর্তী, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু ছাড়াও অনুষ্ঠানে সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহাসহ অনকের উপস্থিতিতে রফিউর রাব্বি আরো বলেন, ‘ত্বকী হত্যার সকল ঘাতকদের অভিযোগপত্রে যুক্ত করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে হবে।’









Discussion about this post