ফতুল্লায় চাঁদাবাজের প্রতিবাদ করায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের মারধরের জেরধরে যুবদল নেতা এনামুল হক মামুনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে প্রতিপক্ষরা।
মামুন ফতুল্লা থানা বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লার অন্যতম সহযোগী।
তবে বিএনপির ক্ষমতার দাপটে ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমানসহ তার সাঙ্গ পাঙ্গরা থানার ওসির কক্ষের মধ্যেই মামুনকে মারধর করায় পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত সোমবার (১০ই মার্চ) রাতে ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মামুনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়া হলে সেই ভিডিও ভাইরালের পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা পান্না মোল্লার অন্যতম সহকারী বিএনপি নেতা এনামুল হক মামুন, ছাত্রদল নেতা কাজী নাজমুল, নাজমুল হোসেন, যুবলীগ নেতা লঙ্গী বাবু সহ আরো বেশ কয়েকজন মিলে সাইনবোর্ড এলাকায় বিভিন্ন পরিবহণে চাঁদাবাজি শুরু করে।
ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়কের সাইনবোর্ডে চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদ করে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আতাই রাব্বি, সঞ্চয়, ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান, মিল্টন।
এমন ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে কয়েকদিন যাবৎ সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। অত শনিবার মামুন তার লোকজন নিয়ে মাহফুজ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয় ওই হামলায়। পরবর্তীতে মামুনসহ কয়েকজনের ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আর সোমবার রাতে মামুন থানার সামনে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে রহমান ও সঞ্জয় এর নেতৃত্বে একদল লোক এসে থানার সামনে মামুনকে পেয়ে গণধোলাই দিয়ে টেনে হিচরে মারধর করে ওসির কক্ষেই মারধরের পর পুলিশের সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান জানায়, ‘মামুন তার সহযোগীদের নিয়ে গোটা সাইনবোর্ড এলাকা জিম্মি করে রেখেছে। তারা পরিবহণে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে। সাধারণ মানুষকে অতিষ্ট করে তুলেছে তারা। তাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা রয়েছে। তাদের অপকর্মের জন্য বিএনপির দুর্নাম হয়। এ জন্য তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করি। এর জেরে গত শনিবার মামুন দলবল নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় আমাদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সম্পর্কে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বাদীর লোকজন মামুনকে রাস্তায় পেয়ে ধরে এনে থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে । আমরা মামুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি।
এমন ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শী পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওসির কক্ষে মারামারি এটি কোন আইনের আওতায় পরে। কি বলা যায়। আইনশৃঙ্খলা কোথায় ?’









Discussion about this post