দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগসহ নানা অপরাধের কারণে বরখাস্ত হওয়া সেই সোনারগাঁ দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক শহীদ সরকার সনদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
আজ রোববার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ সরকার সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের দোসররা তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়েরের পর তার দলিল লেখকের সনদ স্থগিত করে। পরে বিষয়টি তদন্ত করা হলে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হয়।

এ সময় তিনি দ্রুত সনদ স্থগিত ও প্রত্যাহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য দলিল লেখকরা উপস্থিত ছিলেন।
খোজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ সরকারকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে গত ৫ ফেব্রুয়ারী। নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রেজা স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরখাস্তের আদেশের কপি সোনারগাঁ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এসে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান। একই অভিযোগে আরও পাঁচজন নকলনবিশকে বন্দর ও ফতুল্লা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ ও তদন্তের ফলাফল
জানা গেছে, দলিল লেখক গাজী কামাল হোসেন ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শহীদ সরকার এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে শহীদ সরকারের বোন নকলনবিশ রূপালী ওরফে আছিয়া, লিপি আক্তার, রিনা আক্তার এবং ভাই মনির হোসেন সরকার ও পনির হোসেন সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সরেজমিন তদন্তে অভিযোগকারীর লিখিত বক্তব্য ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রেজা স্বাক্ষরিত এক আদেশে শহীদ সরকারকে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দলিল লেখার মূল সনদ বাতিল পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত জবাব না পেলে তার সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।
অভিযোগকারীর বক্তব্য
অভিযোগকারী দলিল লেখক গাজী কামাল হোসেন বলেন, “শহীদ সরকার ও তার পরিবারের সদস্যরা রেজিস্ট্রি অফিসে প্রভাব বিস্তার করে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করছে। গত চার বছরে দলিল লেখক সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং নকলনবিশদের কাছ থেকে প্রতি দলিলে ১০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শহীদ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আমি যথা সময়ে জবাব দেব এবং আশা করি তদন্ত কমিটি আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবে।”
প্রশাসনের বক্তব্য
সোনারগাঁ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “শহীদ সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং লিখিত আদেশের কপি আমাদের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আরও পাঁচজন নকলনবিশকে বদলি করা হয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রেজা বলেন, “তদন্তে প্রাথমিকভাবে শহীদ সরকার দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত ব্যাখ্যা না দিলে তার সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।”









Discussion about this post