বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ আলী যেন যেন টক অব দ্যা টাউন। যিনি সব সময়ই বিতর্কিত কর্মকান্ড করে সমালোচিত হলেও দীর্ঘদিন কেউ টু শব্দটিও করেন নাই এই মোহাম্মদ আলীর কুকর্ম নিয়ে। আর মোহাম্মদ আলীর হাজারো অপকর্ম নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে বিতর্কিত কাজের জন্য সমালোচিত হলেও বীরের বেশেই বীরদর্পে চষে বেড়িয়েছেন সর্বত্র।
ওসমানীয় দালাল হিসেবে পরিক্ষিত সেই মোহাম্মদ আলী একাত্তরের স্বাধীনতার শ্লোগান ‘জয় বাংলা’ বলেই এবার বেকায়দায় পড়েন তিনি। যাকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সকলেই রাজনৈতিক বারবনিতা হিসেবে আখ্যায়িত করে। আর অধিকাংশ গণমাধ্যম বিতর্কিত এই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ নানা অপরাধের কোন প্রতিবেদন দীর্ঘদিন প্রকাশ না করলেও এবার ২৪ ডিসেম্বর (সোমবার) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বক্তব্য শেষ করার ঘটনায় তোলপাড় সৃস্টি হয় নগরীজুড়ে।
আর এতেই বিএনপির সাবেক এমপি দাবী করা সেই রাজনৈতিক পতিতা (বারবনিতা) খ্যাত মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে “মোহাম্মদর আলীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে“ এমন শ্লোগান ও বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কাছে অবাঞ্চিত ঘোষনা করার দাবী জানায় বিএনপির নেতাকর্মীরাই।
আর তাতেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মোহাম্মদ আলী কথিত সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষমাও চান মুক্তিযোদ্ধা দাবী কার মোহাম্মদ আলী। যদিও এই মোহাম্মদ আলীকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলেও শ্লোগান দেয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক সমালোচিত মোহাম্মদ আলীকে গিরগিটির (বাগানের গিরগিটি (বৈজ্ঞানিক নাম: Calotes versicolor) যা ‘রক্তচোষা’ নামে অতি পরিচিত) সাথে তুলনা করে অনেকেই বলেন, মোহাম্মদ আলীর পারিবারিক পরিচয় নিলেই বেড়িয়ে আসবে এই পরিবারটি কেমন। মহান মুক্তিযোদ্ধের তিনি (মোহাম্মদ আলী) বীর হলে এই মোহাম্মদ আলী কি করে ব্যাংক ডাকাতি করেন ? তাকে এখনো সকলেই ‘নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলী’ হিসেবেই চিনেন।
দেশ স্বাধীনতার পর ৭৪ সালে ব্যাংকের টাকা ডাকাতির পর বস্তা থেকে টাকা ছিটাতে ছিটাতে পালিয়ে যায় মোহম্মদ আলী। এরপর দীর্ঘদিন পলাতক থাকাবস্থায় টালমাটাল সরকার পাল্টানোর এক পর্যায়ে ২৪ মার্চ ১৯৮২ সাালে এরশাদ রাস্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে ওই ডাকাতি মামলা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠে মোহাস্মদ আলী। আদমজী মিলের শ্রমিকদের বেতনের নয় লাখ টাকা ডাকাতির মামলা ধামাচাপা দিতে এরশাদ সরকারের শাসনামলে সেনা দপ্তরে দৌড়ঝাপ চালায় ধূর্ত এই মোহাম্মদ আলী। সেই ডাকাতির মামলার রায়ে মোহাম্মদ আলী রক্ষা পেলেও ওই ব্যাংক ডাকাতির মামলায় ফতুল্লার পাগলা এলাকার আকবর শেঠ, চিত্তরঞ্জন এলাকার মোস্তফা, নূর ইসলামসহ কয়েকজন দন্ডিত হয়ে কারাবরণ করেন। সেই মোহাম্মদ আলী এরশাদ সরকারের শাসনামলের পুরোটা সময় অপরাধের মাত্রা অব্যাহত রেখে বনে যান শিল্পপতি।
এরশাদের পতনের পর এবার বিএনপির সাথে সূর মিলিয়ে কুকর্ম রাখেন অব্যাহত। কখনোই থেমে থাকেন নাই মোহাম্মদ আলী । বিতর্ক যেন তার অত্যান্ত প্রিয় অধ্যায়। স্টাইলিস্ট মোহাম্মদ আলী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর সেই বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি হঠাৎ করেই বিএনপির টিকিটে ১৭ দিনের জন্য সংসদ সদস্য হয়ে সংসদ সদস্যের স্টিকার গলায় ঝুলিয়ে এখনো দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র।
সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের মূল কুশিলব হিসেবে সেনাবাহিনীকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কারিগরের ভূমিকা পালন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের শাসনামলে শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, কাজলসহ বিতর্কিতদের তৈলমর্দন করে নানা কর্মকান্ড অব্যাহত রাখেন মোহম্মদ আলী। যা এখনো অত্যান্ত কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ব্যাংক ডাকাতি, এরশাদের জাতীয় পাটি, বিএনপি, ব্যবসায়ী সংগঠন, ফের সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের পাশে আবার আওয়ামীলীগের সাথে থেকে বিতর্ক সৃস্টিকারী এই মোহাম্মদ আলী এবার নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপরাধ যেন চালিয়েই যাচ্ছে অবিরাম পন্থায়।

৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ পতনের পর জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতার হাত ধরে পথচলার ব্রত নিলেও শেষ রক্ষা আর হলো না রঙ পাল্টানো রাজনৈতিক পতিতাখ্যাত এই মোহাম্মদ আলীর।









Discussion about this post