নারায়ণগঞ্জ থেকে নানা অপরাধের পর গাজীপুরেও বিতর্কের ঝড় তুলেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সেই ক্যাশিয়ারখ্যাত ইন্সপেক্টর খোকন চন্দ্র সরকার।
এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটায় নরসিংদী ডিবি পুলিশের ওসি সিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর একজন ষাটোর্ধ বৃদ্ধা নুরতাজ বেগমকে টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করে খোকন চন্দ্র সরকার। মোটা অংকের টাকায় ওই ঘটনাও ধামাচাপা খোকন চন্দ্র সরকার।
এবার গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত খোকন চন্দ্র সরকারকে সোমবার তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি কাপাসিয়া থানায় যোগদানের পর ঢাকা থেকে কোটি টাকার গাড়ি দিয়ে অফিস করতে দেখা গেছে।
এমন ঘটনার বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিলে এবং সংবাদ প্রকাশ হলে তাকে প্রত্যাহার করে গাজীপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
তবে বিষয়টি তদন্ত করে গাজীপুরের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের এসআই পদ ২০১০ সালে নিয়োগ পাওয়া খোকন চন্দ্র সরকার গত আ.লীগ সরকারের আমলে বেশিরভাগ সময় চাকরি করেছেন নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখায়।
আর ডিবিতে দীর্ঘ এ সময় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের নির্যাতন করে টাকা আদায় এবং আন্তঃজেলা মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার হাতে। ২০২২ সালে এসআই থেকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতির পর তাকে পোস্টিং করা হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদী জেলার ডিবি পুলিশে। পদোন্নতি পাওয়ার পরই অনেক সিনিয়রকে বাদ দিয়ে তাকে করা হয় নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এরপর থেকে তিনি অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সশস্ত্রভাবে লড়াই করে গুলি বর্ষণ করেন ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে। পরে ৫ আগস্ট রাতের বেলায় ছদ্মবেশে নরসিংদী থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ঢাকা ডিআইজি অফিস থেকে তাকে গাজীপুরে পোস্টিং করা হলে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে গাজীপুরের পুলিশ সুপার তাকে কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত হিসেবে নিয়োগ দেন।
সর্ব ক্ষেত্রে খোকন চন্ত্র টাকায় খেলায় জয়ের মালা পরে বীরের বেশে অপকর্মে লিপ্ত ছিলো।
এই খোকন চন্দ্র সরকারের দুইটি পাজারো ও একটি দামি প্রাইভেট কারের একেক দিন একেকটি ব্যবহার করে ঢাকা থেকে কাপাসিয়া থানায় অফিস করতে দেখা গেছে তাকে।
এ বিষয় কাপাসিয়া থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে পরিদর্শক ( তদন্ত ) খোকন চন্দ্র সরকারকে গাজীপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় এই খোকন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও অত্যন্ত ধুরন্ধর পুলিশের এই কর্তা টাকা দিয়ে সকল অপরাধ মুছে ফেলে।
খোকন চন্দ্র সরকারের ক।অন উক্তি, কর্তা ঘুষ খায় না ! কত পর্যন্ত খায় না !’
যা পুলিশের সকলের মুখে খোকন চন্দ্র সরকারের এই উক্তি চাউর রয়েছে।









Discussion about this post