ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আজ বুধবার ৯ এপ্রিল শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।
কো ধরণের নোটিশ ছাড়াই ছাঁটাই, বোনাস ও বকেয়া বেতনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রবিনটেক্স নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন চার ঘণ্টা। যৌথবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে ।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম। শ্রমিক ছাঁটাই ও সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায় নাই।
আজ বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের আউখাবো এলাকায় রবিনটেক্স পোশাক কারখানার সামনে ঘটে এই সংঘর্ষ। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃস্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিনটেক্স নামে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় প্রায় ৮-১০ হাজার শ্রমিক কাজ করে এই কারখানায়। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২৯ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানাটি বন্ধ ছিল। ছুটি দেয়ার আগে গত ২৮ মার্চ বিনা নোটিশে ৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বন্ধ দেওয়ার আগে শ্রমিকদের ৬৫ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও ৫০ শতাংশ মালিকপক্ষ প্রদান করেন। শ্রমিকদের এক মাসের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও ২০ দিনের বেতন দিয়েই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তপক্ষ ।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) কারখানা খোলার দিন শ্রমিকরা মালিকপক্ষকে ছাঁটাইয়ের কারণ, বেতন ও বোনাস দেওয়ার কথা জানান।
আজ বুধবার সকালে শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এসময় যৌথবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলেন। তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে শ্রমিকরা যৌথবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পানির বোতল নিক্ষেপ করে। যৌথবাহিনী শ্রমিকদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। শ্রমিকরা কারখানার বাইরে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ কর আন্দোলন করে।
আর এই ঘটনায় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে গেলে যৌথবাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ সৃস্টি হয় । শ্রমিকরা যৌথবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে। আর এতেই যৌথবাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হন।

আন্দোলনরত একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে জানান, তারা কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় নারীসহ ৬৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ সম্পর্কের ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজান বলেন,গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে আজ অসন্তোষ দেখা দেয়। যৌথবাহিনী তাদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু তারা যৌথবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে যৌথবাহিনীর সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে ।









Discussion about this post