ঈদের মাত্র ৩/৪ দিন পূর্বে অর্থাৎ ২৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওসমানীয় দালাল হিসেবে পরিক্ষিত সেই মোহাম্মদ আলী একাত্তরের স্বাধীনতার শ্লোগান ‘জয় বাংলা’ বলেই পরেন মহা বিপাকে। শুরু হয় আন্দোলন – শ্লোগান – মিছিল।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু তুলোধুনো করে আদালত চত্তরে “মোহাম্মদ আলীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে“ এমন শ্লোগান ও বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কাছে অবাঞ্চিত ঘোষনা করার দাবী জানায়।
এমন ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সাংবাদিকদের ডেকে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, সেদিনের কথায় আমি অনুশোচনাবোধ করছি। আমার সেদিনের কথায় যদি কেউ ব্যাথিত হয়ে থাকেন তাহলে আমি আন্তরিকভাবে সবার কাছে, জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি। আমার অসুস্থ শরীরে সবাইকে নিয়ে সামনের দিনগুলো এগিয়ে যেতে চাই।’
বিতর্কিত মোহাম্মদ আলী এমন ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ পর্য্যায় থেকে বারবার যোগাযোগ করে মোহাম্মদ আলী বিষয়ে খোজ খবর নেয়া হলেও আওয়ামীলীগ সরকার বিতারিত হওয়ার পর থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ আলী এমন শ্রোগান ছিলো টক অব দ্যা টাউন।
ঈদের পূর্ব দিন অর্থাৎ ৩০ মার্চ পর্যন্ত বিতর্কিত মোহাম্মদ আলী এমন শ্লোগান ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয় ছিলো সকলের মুখে মুখে।
এমন ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর কর্মকান্ডে তোলপাড় হলেও মাত্র ৮/১০ দিনের ব্যবধানে সব কিছু যেন ভুলে গেছে বিক্ষুদ্ধ রাজনীতিবিদরা।
বিতর্কিত মোহাম্মদ আলী শ্লোগানের পর ব্যাপক তোলপাড় করা বিক্ষোভ ও আল্টিমেটামের পর দিশেহারা মোহাম্মদ আলী নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকের কাছে ধর্ণাে দিলেও হতাশ হয়ে পরেন তিনি। মহানগর বিএনপি বিক্ষুদ্ধ কয়েকজন নেতার পরিবারের সাথেও মোহাম্মদ আলী ও তার নিয়োজিত বিশেষ নামধারী কয়েকজন যোগাযোগ করেন ঘটনা মীমাংশা করতে।
শেষ পর্যন্ত অত্যান্ত সুচারুভাবে ঘটনা মীমাংমা হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মোহাম্মদ আলী।
ওসমান পরিবারের অত্যান্ত পরিক্ষিত দালাল হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত মোহাম্মদ আলী উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২০- লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে পুরো নগরীজুড়ে। তবে এমন গুঞ্জনের বিষয়ে কোন সূত্র নিশ্চিত করে কিছু না বললেও ফতুল্লার একটি সূত্র জানায়, “মোহাম্মদ আলীর ২০ লাখে `জয় বাংলা‘ শ্রোগান ম্যানেজ“ হয়েছে।
যার করণে বিতর্কিত মোহাম্মদ আলীর বিরদ্ধে সকল উত্তাপ এখন বরফে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সকলেই রাজনৈতিক বারবনিতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলীর অপকর্ম নগরীর কারোর ই অজানা নয়। বিতর্কিত এই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ জোড়ালোভাবে চাউর থাকলেও কোন গণমাধ্যম অজ্ঞাত কারণে মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ করার সাহস করে নাই।
এবার গত ২৪ মার্চ (সোমবার) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ার ঘটনায় চরমভাবে বেকায়দায় পরেন মোহাম্মদ আলী ।
আর এতেই বিএনপির সাবেক এমপি দাবী করা সেই রাজনৈতিক পতিতা (বারবনিতা) খ্যাত মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে “মোহাম্মদর আলীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে“ এমন শ্লোগান ও বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কাছে অবাঞ্চিত ঘোষনা করার দাবী জানায় বিএনপির নেতাকর্মীরাই।
এমন বিক্ষোভে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মোহাম্মদ আলী কথিত সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষমাও চান তিনি। যদিও এই মোহাম্মদ আলীকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলেও শ্লোগান দেয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই।
ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক সমালোচিত হলে মোহাম্মদ আলীকে গিরগিটির (বাগানের গিরগিটি (বৈজ্ঞানিক নাম: Calotes versicolor) যা ‘রক্তচোষা’ নামে অতি পরিচিত) সাথে তুলনা করে অনেকেই বলেছেন, মোহাম্মদ আলীর পারিবারিক পরিচয় নিলেই বেড়িয়ে আসবে এই পরিবারটি কেমন। মহান মুক্তিযোদ্ধের তিনি (মোহাম্মদ আলী) বীর হলে এই মোহাম্মদ আলী কি করে ব্যাংক ডাকাতি করেন ? তাকে এখনো সকলেই ‘নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলী’ হিসেবেই চিনেন।
দেশ স্বাধীনতার পর ৭৪ সালে ব্যাংকের টাকা ডাকাতির পর বস্তা থেকে টাকা ছিটাতে ছিটাতে পালিয়ে যায় মোহম্মদ আলী। এরপর দীর্ঘদিন পলাতক থাকাবস্থায় টালমাটাল সরকার পাল্টানোর এক পর্যায়ে ২৪ মার্চ ১৯৮২ সাালে এরশাদ রাস্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে ওই ডাকাতি মামলা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠে মোহাস্মদ আলী। আদমজী মিলের শ্রমিকদের বেতনের নয় লাখ টাকা ডাকাতির মামলা ধামাচাপা দিতে এরশাদ সরকারের শাসনামলে সেনা দপ্তরে দৌড়ঝাপ চালায় ধূর্ত এই মোহাম্মদ আলী। সেই ডাকাতির মামলার রায়ে মোহাম্মদ আলী রক্ষা পেলেও ওই ব্যাংক ডাকাতির মামলায় ফতুল্লার পাগলা এলাকার আকবর শেঠ, চিত্তরঞ্জন এলাকার মোস্তফা, নূর ইসলামসহ কয়েকজন দন্ডিত হয়ে কারাবরণ করেন। সেই মোহাম্মদ আলী এরশাদ সরকারের শাসনামলের পুরোটা সময় অপরাধের মাত্রা অব্যাহত রেখে বনে যান শিল্পপতি।
এরশাদের পতনের পর এবার বিএনপির সাথে সূর মিলিয়ে কুকর্ম রাখেন অব্যাহত। কখনোই থেমে থাকেন নাই মোহাম্মদ আলী । বিতর্ক যেন তার অত্যান্ত প্রিয় অধ্যায়। স্টাইলিস্ট মোহাম্মদ আলী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর সেই বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি হঠাৎ করেই বিএনপির টিকিটে ১৭ দিনের জন্য সংসদ সদস্য হয়ে সংসদ সদস্যের স্টিকার গলায় ঝুলিয়ে এখনো দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র।
৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ পতনের পর জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতার হাত ধরে পথচলার ব্রত নিলেও শেষ রক্ষা আর হলো না রঙ পাল্টানো রাজনৈতিক পতিতাখ্যাত এই মোহাম্মদ আলীর। তবে এবার মোটা অংকের টাকায় মোহাম্মদ আলী নিজেকে রক্ষা করেছেন রোষানল থেকে ।









Discussion about this post